কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী, দেবীর ভোগে ইলিশ-চিংড়ি-পাঁঠার মাংস!
পার্থপ্রতিম বন্দ্যোপাধ্যায় : কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর ডালা হাতে মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি। ডালায় ছিল বেনারসি শাড়ি, ফুলের মালা ও মিষ্টি। দেবী কালীর চরণে সেগুলি নিবেদন করে আরতি ও অঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নামেই করা হয় পুজোর সংকল্প।

তবে এদিনের পুজোয় শুধু ধর্মীয় আচারই নয়, বিশেষ নজর কেড়েছে দেবীর ভোগের আয়োজনও। বাঙালি হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রচলিত রীতি মেনেই দেবীর জন্য সাজানো হয়েছিল নানা পদে সমৃদ্ধ ভোগ। তালিকায় ছিল বাসন্তী পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং একাধিক মাছের পদ।ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে ও কাতলা—বিভিন্ন ধরনের মাছ দিয়ে তৈরি হয়েছিল একাধিক পদ। ছিল কাতলা মাছের মাথাও।
পাশাপাশি ভোগে রাখা হয় বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি।পুজো শেষে মন্দিরের মাটিতে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাতে ছিল বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা ও পায়েস। দেবীকে মাছ ও আমিষ পদ নিবেদনের বাঙালি হিন্দু ধর্মীয় রীতিরই প্রতিফলন দেখা যায় এদিনের অনুষ্ঠানে।তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কালীঘাটের এই পুজোকে ঘিরে আলাদা তাৎপর্যও খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল।

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কের মধ্যেই বিজেপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই।এই আবহে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

তাঁদের মতে, এর মধ্যে বাঙালির নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতি, ধর্মীয় আচার এবং সনাতন ঐতিহ্য নিয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে।এদিনের ভোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরে নিবেদিত মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তী পোলাও তিনি প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।ধর্মীয় আচার ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গের পাশাপাশি বক্তব্যে সনাতন সংস্কৃতির জাগরণের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে গেরুয়া ধ্বজের প্রসঙ্গও।ফলে কৌশিকী অমাবস্যায় কালীঘাট মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো এবং আমিষ ভোগ গ্রহণ একদিকে যেমন ধর্মীয় রীতির প্রতিফলন, অন্যদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও আলোচনায় উঠে এসেছে।