কাঁসাই নদীর চরে রিসোর্ট ঘিরে বিতর্ক, অনৈতিক কার্যকলাপ ও অবৈধ মদের অভিযোগ—মন্ত্রীর দ্বারস্থ গ্রামবাসী!
নিজস্ব সংবাদদাতা : খড়গপুরের কাঁসাই (কংসাবতী) নদীর চরে একটি অ্যাডভেঞ্চার পার্কের পাশে থাকা রিসোর্টকে ঘিরে ফের বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই রিসোর্টের আড়ালে অনৈতিক কার্যকলাপ ও অবৈধ মদের ব্যবসা চলছে। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও পুলিশি ব্যবস্থা না মেলায় এবার রাজ্যমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামবাসীরা। গত রবিবার ২৩শে আগস্টখড়গপুরে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁরা লিখিত অভিযোগও জমা দেন।খড়গপুর গ্রামীণ থানার অধীন বরকোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের খাস্তালুক এলাকায় রিসোর্টটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, শহরের উপকণ্ঠে সরু গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে পৌঁছনো যায় এমন এই রিসোর্টে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রিসোর্টের আড়ালে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড চলছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাঁরা রিসোর্টের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে সেটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দু’দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তালা খুলে দেয়। কিন্তু এরপরও কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না হওয়ায় গত ২০ আগস্ট সাদাতপুর ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর পরও ব্যবস্থা না হওয়ায় এলাকার কয়েকজন মহিলা রবিবার খড়গপুরে এসে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা রিসোর্টটি বন্ধ করার দাবি জানান। মন্ত্রী বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান অভিযোগকারীরা।অভিযোগকারী চাঁদনী মুদ্দি বলেন, “আমরা প্রথমে রিসোর্টটিতে তালা দিয়েছিলাম। পরে পুলিশ এসে সেই তালা খুলে দেয়। কিন্তু অভিযোগ করা সত্ত্বেও কথিত বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। তাই আমরা মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছি।”স্থানীয় বাসিন্দা সুবীর পাল বলেন, “রিসোর্টে তালা দেওয়ার আগেই আমরা সাদাতপুর ফাঁড়িকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। পুলিশ দু’দিনের মধ্যে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় আমরা মন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছি।”
আগেও একাধিক অভিযোগে বিতর্কে রিসোর্ট :
স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি রিসোর্টটি এর আগেও একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছে। রিসোর্টের মালিক অমর কুমার পাত্র সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ভাড়াটে লোক দিয়ে রিসোর্টে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।এরপর রিসোর্টের বাইরে সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন অমর কুমার। তাঁর দাবি, গত ১৩ আগস্ট এই ঘটনায় পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর পরেই রিসোর্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের নতুন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন রিসোর্টের মালিক অমর কুমার। খড়গপুরের ভবানীপুরের বাসিন্দা ওই রিসোর্ট মালিক বলেন, “গত ১৩ আগস্ট সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। সেই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরাই এখন মহিলাদের সামনে রেখে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। পুলিশ চাইলে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”
অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা, জানাল পুলিশ :
এদিকে খড়গপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কথিত পতিতাবৃত্তি ও বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের অভিযান চালানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। নারায়ণগড় এবং খড়গপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশি তৎপরতা দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত ওই রিসোর্টকে ঘিরে গ্রামবাসীদের অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানো বলেন, “যেখানেই এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়, সেখানেই অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই রিসোর্ট সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত আমাকে কেউ জানায়নি। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব। অভিযোগ পাওয়ার পর অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”গ্রামবাসীদের অভিযোগ এবং রিসোর্ট মালিকের পাল্টা দাবিকে ঘিরে এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তের পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং রিসোর্টকে ঘিরে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।