প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কড়া নিয়ম, শিক্ষক-চিকিৎসকদের জন্য ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা

প্রাইভেট প্র্যাকটিসে কড়া নিয়ম, শিক্ষক-চিকিৎসকদের জন্য ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা
প্রতীকী ছবি। 

নিজস্ব সংবাদদাতা: সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক-চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের নিয়মে বড়সড় বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে কোনও রোগী ভর্তি হওয়ার দিন এবং তার পরবর্তী দু’দিন—মোট ৭২ ঘণ্টা—সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক কোনও ধরনের বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। সোমবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। নতুন নিয়ম মূলত সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসরদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের শারীরিক অবস্থার উপর চিকিৎসকদের আরও নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত।রোগী ভর্তি হওয়ার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক যাতে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ বলে জানানো হয়েছে।স্বাস্থ্য দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৬ সালের ‘পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস রুলস’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন নির্দেশিকা নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। তাঁদের বক্তব্য, বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। কোনও চিকিৎসকের সপ্তাহে দু’দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ থাকলে, প্রতিবার ৭২ ঘণ্টা করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ রাখার ফলে কি কার্যত সপ্তাহের ছ’দিনই ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস বন্ধ রাখতে হবে? আবার অ্যানেস্থেশিয়া, ডার্মাটোলজি কিংবা রেডিওলজির মতো বিভাগে নির্দিষ্ট ‘অ্যাডমিশন ডে’ না থাকায় তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে।স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশকে ঘিরে একদিকে সরকারি হাসপাতালে রোগী পরিষেবাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে এই বিধিনিষেধ অন্যান্য সরকারি চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করা হবে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্তকে রোগী পক্ষের একাংশ স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে রোগী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নিয়মিত ও নিবিড় নজরদারি নিশ্চিত হলে চিকিৎসা পরিষেবার মান আরও উন্নত হবে। বিশেষ করে জটিল অবস্থায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা।