রেল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরব খড়গপুর চেম্বার, প্রেস মিটে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার জোরালো দাবি!

রেল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সরব খড়গপুর চেম্বার, প্রেস মিটে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার জোরালো দাবি!

অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়গপুর চেম্বার অফ কমার্সের উদ্যোগে বুধবার, ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টায়, গোলবাজারের রাম মন্দির প্রাঙ্গণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস মিট সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। রেল মার্কেটের হাজার হাজার দোকানদার ও প্লট হোল্ডারদের দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং রেলওয়ে বোর্ডের একাধিক সার্কুলারের সঠিক প্রয়োগের দাবিতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।প্রেস মিটে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সম্পাদক বজরং ভার্মা, সহ-সম্পাদক জাভেদ আহমেদ খান ও দীপক জয়েসওয়াল, সম্পাদক এম এস গান্ধী, সহ-সভাপতি শৈলেশ জৈন, কার্যকরী সভাপতি অনিল কেডিয়া এবং কার্যকরী সদস্য শিবশঙ্কর ত্রিবেদী-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সভায় মূলত রেলওয়ে বোর্ডের ১০.০১.২০০৫, ০৪.১০.২০২২ এবং ৩০.১০.২০২৫ তারিখের সার্কুলারগুলির সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়, যা খড়গপুর রেল মার্কেটের দোকান ও খোলা জমির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। চেম্বারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সার্কুলার অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

  • এককালীন নাম পরিবর্তনের সুযোগ (One Time Name Transfer)
  • লাইসেন্স ফি-র ক্ষেত্রে পুরনো বকেয়া (Retrospective Demand) আরোপ না করা
  • অপ্রয়োজনীয় জরিমানা না নেওয়া
  • প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে পরিষ্কার ও স্বচ্ছ অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট প্রদান
  • বকেয়া অর্থ সহজ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ

চেম্বারের নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানায়, এই নিয়মগুলি স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং ব্যবসায়ী-বান্ধবভাবে প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। সম্পূর্ণ হিসাব না দিয়ে কোনওভাবেই লাইসেন্স ফি আদায় করা উচিত নয় বলেও তারা জোর দেয়।চেম্বার অফ কমার্সের অবস্থানও এই সভায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, তারা রেল মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং রেলওয়ের নীতির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে ফি সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করাই তাদের মূল লক্ষ্য।প্রেস মিট থেকে রেল প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, রেলওয়ে বোর্ডের সার্কুলারগুলি দ্রুত ও সঠিকভাবে কার্যকর করতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পান। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের কাছেও আবেদন করা হয়েছে, জনস্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আরও বেশি করে সামনে তুলে ধরার জন্য।খড়গপুরের রেল মার্কেটকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ যে ব্যবসায়ী মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তা বলাই যায়।