ইন্দাসের বাগমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

ইন্দাসের বাগমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পালন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

প্রেমচাঁদ ফোজদার: পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিন উপলক্ষে বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস চক্রের বাগমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত হল বিশেষ সংবর্ধনা সভা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি নন্দীর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্র, সমাজসেবা, ক্রীড়া ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইন্দাসের বিধায়ক নির্মল ধারা, বিশ্ব যোগাসন চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক জয়ী টিনা খাতুন, সমাজসেবী ও শিক্ষক অক্ষয় বসু, দীপম্বর হালদার, চন্দন কুমার মণ্ডল, শান্তনু নন্দী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি নন্দী সংবাদমাধ্যমকে জানান, সেপ্টেম্বর মাসে জন্মগ্রহণকারী তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব—ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও দার্শনিক সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন, সমাজ সংস্কারক ও ‘বর্ণপরিচয়’-এর রচয়িতা পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের যেসব ছাত্রছাত্রীর জন্মদিন সেপ্টেম্বর মাসে, তাদেরও এদিন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জন্মদিন পালন করা হয়। বিধায়ক নির্মল ধারা বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এই সংবর্ধনা সভায় উপস্থিত হতে পেরে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছেন। সেপ্টেম্বর মাসে জন্মগ্রহণকারী তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানান। বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।বিদ্যালয়ের পরিবেশের প্রশংসা করে বিধায়ক বলেন, প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি নন্দী বিদ্যালয়টিকে বিভিন্ন গাছ, ফুলের চারা এবং ছাদবাগানের নানা ধরনের গাছপালা দিয়ে সুন্দরভাবে সাজিয়ে রেখেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ বিদ্যালয়ের পরিবেশকে মনোরম করে তুলেছে। তিনি প্রধান শিক্ষককে একজন প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিশ্রমী মানুষ হিসেবেও উল্লেখ করেন।সমাজসেবী ও শিক্ষক অক্ষয় বসু বলেন, মৃণাল কান্তি নন্দী একজন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। বাগমারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৯৪ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। বর্তমান সময়ে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমলেও এই বিদ্যালয়ের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা ও বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।তিনি আরও বলেন, বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্মদিনও একসঙ্গে পালন করে প্রধান শিক্ষক মৃণাল কান্তি নন্দী উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।এদিনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিদ্যাসাগরের আদর্শ, শিক্ষার প্রসার, সমাজসেবা এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তায় অনুষ্ঠানটি বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে।