অরিন্দম চক্রবর্তী : বেতন বৃদ্ধি, ভবিষ্যনিধি (পিএফ), স্থায়ী পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) এবং অন্যান্য শ্রমিক-সুবিধার দাবিতে সোমবার খড়গপুর পৌরসভার প্রায় ১,২০০ জন অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি (ধর্মঘট) চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।বিক্ষোভকারী কর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শহরের পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও তাঁরা এখনও ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় শ্রমিক-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে বেতন বৃদ্ধি, পিএফের আওতায় আনা, পরিচয়পত্র প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা কার্যকর করতে হবে।কর্মীদের বক্তব্য, একাধিকবার পৌর প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে দাবিগুলি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সেই কারণেই বাধ্য হয়ে তাঁরা ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকারে সংগঠিত করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।প্রায় ১,২০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর একযোগে কর্মবিরতির ফলে খড়গপুর শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ, রাস্তা পরিষ্কার এবং নিকাশি নালা সংস্কার ও পরিষ্কারের কাজ বাধাগ্রস্ত হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হতে পারে।
এর ফলে সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।অন্যদিকে, এই ধর্মঘট খড়গপুর পৌর প্রশাসনের কাছেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে শহরের স্বাভাবিক পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।তবে এই আন্দোলন নিয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত খড়গপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও প্রশাসন শীঘ্রই আন্দোলনকারী কর্মীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে অচলাবস্থা কাটানোর উদ্যোগ নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।