খড়্গপুরে ‘রশ্মি গ্রুপ শারদ সম্মান ২০২৬’, ছয় বিভাগে সেরার স্বীকৃতি পেল পুজো কমিটিগুলি!
নিজস্ব সংবাদদাতা : শারদোৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে এবং পুজো কমিটিগুলির সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করতে খড়্গপুরে আয়োজিত হল ‘রশ্মি গ্রুপ শারদ সম্মান ২০২৬ (সিজন-২)’। রশ্মি গ্রুপের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এই উদ্যোগে ছয়টি বিভাগে সেরা পুজো কমিটিগুলিকে সম্মানিত করা হয়। মহাষষ্ঠীর দিন চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর বিজয়ী কমিটিগুলির মণ্ডপে গিয়ে স্মারক ও ১৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন সংস্থার প্রতিনিধিরা।

এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আইআইটি খড়্গপুরের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. বি. সি. মেইকাপ (HAG), বরকোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ নারায়ণ পড়িয়া, ঝাড়গ্রাম আর্ট একাডেমির অধ্যক্ষ সঞ্জীব মিত্র, বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী তূলি মিত্র এবং শিল্পী সৌম্যদীপ দাস। তাঁদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ছয়টি বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
ছয় বিভাগে বিজয়ী পুজো কমিটি
- সেরা পরিবেশবান্ধব পুজো: বিবেকানন্দ পল্লী পুজো কমিটি, মালঞ্চ।
- পিপলস চয়েস—সেরা পুজো: সেন্ট্রাল মালঞ্চ দুর্গাপুজো কমিটি।
- সেরা মণ্ডপ: মথুরাকাটি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি।
- সেরা থিম: এম.এস. টাইপ দুর্গাপুজো কমিটি, নিমপুরা রেলওয়ে কলোনি।
- সেরা আলোকসজ্জা: তালবাগিচা সবুজ সংঘ ক্লাব।
- সেরা প্রতিমা: নিমপুরা দেওয়ানম্যারো সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি।
শিল্প ও পরিবেশ সচেতনতায় জোর : বিচারকরা খড়্গপুরের পুজো কমিটিগুলির শিল্পভাবনা, মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা নির্মাণ এবং পরিবেশ সচেতনতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। অধ্যাপক ড. বি. সি. মেইকাপ জানান, পুজো কমিটিগুলির সৃজনশীলতা প্রশংসনীয়। বিশেষত পরিবেশবান্ধব পুজো এবং সামাজিক বার্তাভিত্তিক থিমের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া ইতিবাচক দিক।

তাঁর মতে, রশ্মি গ্রুপের এই উদ্যোগ আগামী দিনে পুজো কমিটিগুলিকে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।ঝাড়গ্রাম আর্ট একাডেমির অধ্যক্ষ সঞ্জীব মিত্র মণ্ডপ ও প্রতিমার শৈল্পিক মানের প্রশংসা করেন। রঙের ব্যবহার, মাটির কাজ এবং আলোকসজ্জার সূক্ষ্ম কারুকার্য তাঁর নজর কেড়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, বরকোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ নারায়ণ পড়িয়া পুজো মণ্ডপে প্লাস্টিক বর্জন ও সবুজায়নের বার্তাকে সমাজের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
রশ্মি গ্রুপের উদ্যোগে মণ্ডপে মণ্ডপে সম্মাননা : রশ্মি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভাস্কর চৌধুরী জানান, বাংলার সংস্কৃতি ও মানুষের আবেগের সঙ্গে শারদোৎসব গভীরভাবে জড়িত। পুজো কমিটিগুলির সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানো এবং উৎসবের আনন্দের অংশীদার হওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সংস্থার CSR কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্প, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এবার পুরস্কার বিতরণের ক্ষেত্রেও অভিনব উদ্যোগ নেয় সংস্থা। কেন্দ্রীয় মঞ্চে বিজয়ীদের ডেকে পুরস্কার দেওয়ার পরিবর্তে রশ্মি গ্রুপের প্রতিনিধিরা সরাসরি প্রতিটি বিজয়ী পুজো মণ্ডপে পৌঁছে যান। সেখানে পুজো কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় আকর্ষণীয় স্মারক এবং ১৫ হাজার টাকার চেক।এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রশ্মি গ্রুপের জিএম (লিগ্যাল) তপন নাথ, ডিজিএম (CSR) নটবর বিসওয়াল, এজিএম (ডেসপ্যাচ) তাপস দাস, এজিএম (মেকানিক্যাল) সঞ্জয় ওঝা এবং ম্যানেজার (HR) অনিমেষ ভূঁইয়া-সহ সংস্থার অন্যান্য আধিকারিক।
সম্মান পেয়ে খুশি বিজয়ী কমিটিগুলি : সরাসরি মণ্ডপে এসে সম্মাননা ও আর্থিক পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য রশ্মি গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিজয়ী পুজো কমিটিগুলি। সেন্ট্রাল মালঞ্চ দুর্গাপুজো কমিটির পক্ষে ঋত্বিক সামন্ত এবং বিবেকানন্দ পল্লী পুজো কমিটির পক্ষে ইন্দ্রনীল রায় ও সম্রাট ঘোষ জানান, এই সম্মান তাঁদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। পুজোর দিন মণ্ডপে এসে সংস্থার প্রতিনিধিদের পুরস্কার তুলে দেওয়ার উদ্যোগ কমিটির সদস্যদের পরিশ্রমকে বিশেষ স্বীকৃতি দিয়েছে।সব মিলিয়ে, ‘রশ্মি গ্রুপ শারদ সম্মান ২০২৬ (সিজন-২)’ খড়্গপুরের দুর্গোৎসবে সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তাকে আরও জোরদার করল। পুজো কমিটিগুলিকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি এই উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবেও উঠে এল।