নিজস্ব সংবাদদাতা : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা ২২ মিনিট। আচমকাই কেঁপে উঠল গোটা শহর, তার সঙ্গে কাঁপল বিস্তীর্ণ জেলা জুড়ে একাধিক এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। প্রায় ৫২ সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। পরপর দু’বার কম্পন অনুভূত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।কলকাতার বিভিন্ন বহুতল অফিস, বাণিজ্যিক ভবন ও আবাসন থেকে মানুষ তড়িঘড়ি রাস্তায় নেমে আসেন। বহু মানুষের মোবাইলে ভূমিকম্প সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি, কলকাতা, হাওড়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, নদিয়া-সহ উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতেও কম্পন অনুভূত হয়।ভূ-তত্ত্ববিদদের মতে, কম্পনের স্থায়িত্ব আর কিছুটা বেশি হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত। যদিও এখনও পর্যন্ত বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, কয়েকটি এলাকায় বাড়ির চাল ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরবঙ্গে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। তার প্রভাব পড়ে Sikkim-সহ দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতে। সিকিমে কম্পনের পর উত্তরবঙ্গে এক ঘণ্টার মধ্যে দু’বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি মাসের শুরু থেকেই সিকিমে দফায় দফায় কম্পন হচ্ছে। কয়েক দিন আগে রাবাংলা থেকে আট কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল ভূমিকম্পের উৎসস্থল। সে সময় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১৩ বার কম্পন রেকর্ড করা হয়। গত ২০ দিনে ৫০টিরও বেশি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতেও দার্জিলিংয়ে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যার উৎসস্থল ছিল সিকিম। সেদিন শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়িতেও মৃদু কম্পন টের পাওয়া যায়। গ্যাংটক ও পেলিংয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্রতা ছিল।বারবার কম্পনে উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আতঙ্ক নয়—সতর্কতাই একমাত্র উপায়। ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় বাসিন্দাদের সচেতনতা ও প্রস্তুতি এখন সময়ের দাবি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা — দার্জিলিং — পশ্চিমবঙ্গ — পশ্চিম মেদিনীপুর — পূর্ব মেদিনীপুর — হাওড়া — উত্তর ২৪ পরগনা — আলিপুরদুয়ার — দুর্গাপুর — নদিয়া — পশ্চিম বর্ধমান — বাঁকুড়া — বীরভূম — মালদা — কলকাতা
দুপুরে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলা!