শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের ৮ দিনের CID হেফাজত, মেদিনীপুর আদালতে কড়া নিরাপত্তা!

শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়ের ৮ দিনের CID হেফাজত, মেদিনীপুর আদালতে কড়া নিরাপত্তা!

সেখ ওয়ারেশ আলী : শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পরই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক হিসেবে পরিচিত সুমিত রায়কে। গ্রেফতারের পর শুক্রবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করে সিআইডি। তাঁকে আদালতে তোলাকে ঘিরে সকাল থেকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় গোটা আদালত চত্বর। কোর্ট লকআপ এলাকা থেকে আদালতের মূল প্রবেশপথ—সর্বত্র মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। ধৃতকে আদালতে হাজিরার সময় যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা যায়।এদিন সিআইডির পক্ষ থেকে সুমিত রায়কে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত তাঁকে ৮ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে ফের মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হবে।আদালতের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সুমিত রায়কে নিয়ে মেদিনীপুর থেকে সরাসরি কলকাতার ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেয় সিআইডির দল

হোটেলে বৈঠক, নগদ লেনদেনের তথ্য—তদন্তে নতুন মোড় : সিআইডি সূত্রে দাবি, শালবনী জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে মেদিনীপুরের একটি হোটেল, যেখানে নির্দিষ্ট একটি ঘরে টাকার লেনদেন এবং বৈঠক চলত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই বৈঠকগুলির মাধ্যমেই জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির পরিকল্পনা ও কার্যকলাপ পরিচালিত হত বলে তদন্তকারীদের অনুমান।তদন্তের স্বার্থে এক প্রোমোটার এবং ওই হোটেলের মালিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

মামলার কেস ডায়েরিতে নগদ লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।অন্যদিকে, মামলায় ধৃত সুজয় হাজরার অ্যাকাউন্ট দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক ঠিকাদারও তদন্তকারীদের নজরে এসেছেন। তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।এখন সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় নতুন কী তথ্য সামনে আসে এবং তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর তদন্তকারী মহলের।