সুমিত রায়কে মেদিনীপুর আদালতে পেশ: আট দিনের পুলিশি হেফাজত!
অরিজিৎ সাহা : পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে জমি সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার সুমিত রায়কে শুক্রবার মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হল। তাঁকে আদালতে পেশ করার আগে ও পরে মেদিনীপুর আদালত চত্বরে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।সুমিত রায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রাজনৈতিক মহলে পরিচিত বলে দাবি করা হয়। শালবনী জমি সংক্রান্ত মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা। গ্রেফতার এড়াতে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই আবেদন খারিজ হওয়ার পরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।তদন্তকারী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কলকাতার কালীঘাটের ১২১ নম্বর কালীঘাট রোড সংলগ্ন এলাকায় STF ও CID-এর আধিকারিকদের তৎপরতা দেখা যায়। সেখান থেকেই সুমিত রায়কে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের।গ্রেফতারের পর শুক্রবার তাঁকে মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়। মামলায় তদন্তের অগ্রগতি, হেফাজতের প্রয়োজনীয়তা এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে আদালত কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।তবে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ এবং তাঁকে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কারণ আদালতের পরবর্তী শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হতে পারে।সুমিত রায়ের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শালবনী জমি মামলা ঘিরে তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরও।সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছিল, অভিষেকের পিএ-কে আট দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানানো হয়েছে। সুমিতকে নিয়ে সিআইডির দল আদালত চত্বরে পৌঁছোনোর আগেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) উত্তম ঘোষের নেতৃত্বে গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন পুলিশ আধিকারিকেরা।আদালতে শুনানির জন্য মামলা উঠলে সুমিতের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। সহকারী সরকারি কৌঁসুলি নাজিম হাবিব জানান, বিচারক সুমিতকে আট দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর ফের সুমিতকে আদালতে হাজির করানো হবে।