প্রাচীন ভাষায় আধুনিকতার বার্তা! নাড়াজোল রাজ কলেজে বর্ণময় আয়োজনে সংস্কৃত দিবস!

প্রাচীন ভাষায় আধুনিকতার বার্তা! নাড়াজোল রাজ কলেজে বর্ণময় আয়োজনে সংস্কৃত দিবস!

নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রাচীন ঐতিহ্য, সাহিত্যিক সমৃদ্ধি ও আধুনিক সমাজে সংস্কৃত ভাষার প্রাসঙ্গিকতাকে সামনে রেখে নাড়াজোল রাজ কলেজে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হল সংস্কৃত দিবস। সোমবার কলেজের সংস্কৃত বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের উদ্যোগে দিনভর নানা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।সংস্কৃত ভাষার ইতিহাস, বৈজ্ঞানিক বৈশিষ্ট্য, সাহিত্য ও ভারতীয় জ্ঞান-সংস্কৃতিতে তার অবদান সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। সংস্কৃত ভাষার গুরুত্ব ও ঐতিহ্য তুলে ধরে বিভিন্ন বার্তাসমৃদ্ধ পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। এরপর কলেজ প্রাঙ্গণে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. বাসুদেব মণ্ডল।অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, গোটা অনুষ্ঠানটি সংস্কৃত ভাষায় পরিচালনা করেন সংস্কৃত বিভাগের ছাত্রীরা। সংস্কৃত রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল পর্ব।

এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি।ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে সংস্কৃত ভাষায় বক্তব্য প্রতিযোগিতা এবং পরিবেশের মতো সমকালীন বিষয় নিয়ে সংস্কৃত কথোপকথন বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এর মাধ্যমে সংস্কৃত যে শুধুমাত্র প্রাচীন ঐতিহ্যের ভাষা নয়, আধুনিক জীবন ও সমকালীন বিষয় নিয়েও ভাব প্রকাশের উপযোগী—সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী। সেখানে সংস্কৃত ভাষার ইতিহাস, প্রাচীন লিপি, সাহিত্য, শাস্ত্র, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংস্কৃতের গভীর সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীটি ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যেও বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারাও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা সংস্কৃত ভাষার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সাহিত্যিক সমৃদ্ধি এবং বর্তমান সময়ে এর প্রাসঙ্গিকতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, সংস্কৃত শুধুমাত্র অতীতের একটি ভাষা নয়; ভারতীয় দর্শন, সাহিত্য, বিজ্ঞান, জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধার। তাই নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃত ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা জরুরি।দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচির শেষে সংস্কৃত বিভাগের ছাত্রীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় রাখি বন্ধন উৎসব। পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই পর্বে অনুষ্ঠানের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও প্রাণবন্ত।সংস্কৃত দিবস উপলক্ষে নাড়াজোল রাজ কলেজের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন প্রাচীন সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য ও গৌরব তুলে ধরা হয়েছে, তেমনই সমকালীন সমাজে এই ভাষার ব্যবহার ও প্রাসঙ্গিকতার দিকটিও নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কলেজের সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণে দিনভর অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে সার্থক ও স্মরণীয়।