সেখ ওয়ারেশ আলী : মেদিনীপুর শহরের LIC মোড়ে অবস্থিত হজরত পীর পাহেলওয়ান বাবার মাজার শরীফে সোমবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হল ৮৪ তম বর্ষের ঊরুষ উৎসব। প্রতি বছরের মতো এবছরও সোমবার ও মঙ্গলবার—দু’দিনব্যাপী এই পবিত্র অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই মাজার প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ।

মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত বহু মানুষও মাজারে এসে ধূপ-চাদর চড়িয়ে, ফাতেহা পাঠ করে ও মনের আশা পূরণের প্রার্থনা জানান। এই দৃশ্য আবারও প্রমাণ করল—ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের বিশ্বাস আর ভালোবাসার মিলনস্থল হয়ে উঠেছে এই দরগা।সকাল থেকেই মাজারের সামনে কোরআন পাঠ ও তেলাওয়াতের আয়োজন করা হয়। সারাদিন ধরে চলতে থাকে ইবাদত ও দোয়া-মোনাজাত। সন্ধ্যায় মাজার শরীফ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ জলসা, যেখানে কলকাতার বিশিষ্ট মাওলানা সাহেব উপস্থিত থেকে ধর্মীয় বক্তব্য রাখেন এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা দেন।মাজারের খাদেম পরিবারের জামাই ওয়ারেশ আলী জানান, প্রতিবছর মাঘ মাসের ২৬ ও ২৭ তারিখ হজরত পীর পাহেলওয়ান বাবার ঊরুষ পাক পালিত হয়ে থাকে। প্রথম দিন হয় মূল ঊরুষ অনুষ্ঠান, দ্বিতীয় দিনে কাওয়ালির আয়োজন করা হত। তবে গত তিন বছর ধরে কাওয়ালি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া মাজার কমিটির থেকে।

পরিবর্তে সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবছর ঊরুষ উপলক্ষে দুস্থ মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ ও রক্তদান শিবির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আয়োজকদের বক্তব্য,পীর পাহেলওয়ান বাবার,উল্লেখযোগ্যভাবে, এই মাজার শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়—বরং বহু বছর ধরে এটি সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এখানে এসে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ শান্তি খুঁজে পান।হজরত পীর পাহেলওয়ান বাবার মাজার শরীফে।