নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজধানী দিল্লিতে ৮ই জুন সোমবার সন্ধ্যায় একাধিক রাজনৈতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। সূত্রের দাবি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে পৌঁছান। সেখানে দলের একাংশ অসন্তুষ্ট সাংসদও উপস্থিত ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজধানীতে এক সাংসদের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে একাধিক সাংসদ অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশ্যে আসা কিছু ছবিতে দেখা গিয়েছে, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগের পর কয়েকজন অসন্তুষ্ট সাংসদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। এর জেরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদল এবং সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।সূত্রের খবর, তৃণমূলের অন্তত ২১ জন বিদ্রোহী সাংসদ একটি গোপন বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিতদের মধ্যে শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসুনিয়া,ঝাড়গ্রাম লোকসভার সাংসদ কালীপদ সোরেন, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এবং অরূপ চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, সংসদে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের দাবি, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে নিজেদের ‘ভিন্ন গোষ্ঠী’ হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানানো হতে পারে। পাশাপাশি, গণইস্তফার সম্ভাবনা নিয়েও উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে খবর।অন্যদিকে, ওই বৈঠকের পর তৃণমূলের একাংশ বিদ্রোহী বিধায়ক বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেও পৌঁছেছেন বলে সূত্রের দাবি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিপ্লব দেব-সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা যাচ্ছে।তবে এই বৈঠক, সম্ভাব্য রাজনৈতিক রদবদল কিংবা দলীয় অবস্থান নিয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দিল্লির এই রাজনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
দিল্লিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের বৈঠক ঘিরে জল্পনা, রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা!