জামিন খারিজ, ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

জামিন খারিজ, ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান

নিজস্ব সংবাদদাতা:নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে বড় আইনি ধাক্কা কংগ্রেসের। জামিনের আবেদন খারিজ করে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল হলদিয়া মহকুমা আদালত। আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকতে হবে তাঁকে। পাশাপাশি, খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় আগামী সোমবার তাঁকে কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিন মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক টানাপোড়েনও জারি থাকবে।২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার একটি খুনের মামলায় মিলন প্রধানের নাম জড়ায়। পুলিশ সূত্রে দাবি, নন্দীগ্রাম ও খেজুরি এলাকায় খুন এবং অস্ত্র আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা রয়েছে। সেই পুরনো মামলাগুলির পরিপ্রেক্ষিতেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।তবে প্রায় দু’দশক পুরনো মামলায় এতদিন পর কেন গ্রেফতারি—এই প্রশ্নকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। পুলিশের বক্তব্য, গত ১৯ বছর ধরে মিলন প্রধান ‘ফেরার’ ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।অন্যদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরই পুরনো মামলা সামনে এনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের দাবি, নির্বাচনী লড়াই থেকে কংগ্রেস প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ।ঘটনাপ্রবাহে আরও রাজনৈতিক মাত্রা যোগ হয় শুক্রবার। ওই দিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই সন্ধ্যায় চণ্ডীপুরের একটি হোটেল থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ বলে কংগ্রেসের দাবি। যদিও পুলিশ পুরনো মামলায় থাকা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।গ্রেফতারির পরেই সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁরা এই ঘটনাকে ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি’ এবং ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে অভিযোগ করেছেন। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রার্থী জেলে থাকলেও ভোটের ময়দান থেকে দল সরে দাঁড়াচ্ছে না।এদিকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমাও শেষ হয়েছে। ফলে মিলন প্রধানের প্রার্থীপদ বহাল রয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন, ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজত এবং ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ—এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস কীভাবে প্রার্থীর হয়ে প্রচার চালায় এবং ভোটের দিন তাঁর আইনি অবস্থাই বা কী থাকে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মিলন প্রধানের গ্রেফতারি তাই ভোটের অঙ্কের পাশাপাশি তৈরি করেছে নতুন রাজনৈতিক ও আইনি জল্পনা।