নিজস্ব সংবাদদাতা : ডিজিটাল যুগে প্রতিবাদের ভাষা বদলেছে। আর সেই নতুন ভাষার নাম এখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সংক্ষেপে ‘সিজেপি’। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাতারাতি সামাজিক মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন, যা এখন দেশের যুব সমাজের হতাশা, ক্ষোভ ও বঞ্চনার প্রতীক হয়ে উঠছে।ঘটনার সূত্রপাত একটি মামলার শুনানিতে। সেখানে প্রধান বিচারপতি কিছু বেকার ও আন্দোলনকারী তরুণদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ। সেই মন্তব্য ঘিরেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর মহারাষ্ট্রের যুবক অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই লাখ লাখ তরুণ এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।‘আমিও আরশোলা’ হ্যাশট্যাগে ভরে যায় এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম। কোথাও আরশোলার পোশাক পরে প্রতিবাদ, কোথাও আবার মিম ও ব্যঙ্গচিত্রে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক বার্তা। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ‘সিজেপি’-র জনপ্রিয়তা এমন জায়গায় পৌঁছয় যে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় জোর চর্চা।আন্দোলনের মূল বক্তব্য, দেশের যুব সমাজ ক্রমশ বেকারত্ব, অনিশ্চয়তা ও অবহেলার শিকার হচ্ছে। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ক্ষুদ্র শিল্পে মন্দা— সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সেই ক্ষোভই এবার ‘আরশোলা’ প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের একাংশের।তবে এই আন্দোলনকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। শাসকদলের একাংশের দাবি, এটি শুধুমাত্র ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন নয়, বরং দেশের বিরুদ্ধে বৃহত্তর চক্রান্তের অংশ। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, যুব সমাজের প্রকৃত সমস্যা থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।‘সিজেপি’ ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্য সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং তরুণদের নেতৃত্বে স্বাধীন গণআন্দোলন গড়ে তোলা। যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ডিজিটাল ক্ষোভ বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নেবে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।