নিজস্ব সংবাদদাতা : জীবন থেমে থাকে না। পথ চলতেই হয়। কিন্তু কত দূর এগোলে মানুষ সত্যিকারের পথিক হয়ে ওঠে—তার নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। আনন্দ, উচ্ছ্বাস, হাসির কলরোল যেমন জীবনের অঙ্গ, তেমনি অনন্ত প্রশ্ন, শূন্যতার দীর্ঘ ছায়াও তাকে তাড়া করে ফেরে। অজান্তেই প্রশ্ন জাগে—এই জীবন নিয়ে আমরা কী করছি? সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না, কিছু থেকে যায় অন্তর্লীন দ্বিধায়।এই জীবনদর্শনকে কেন্দ্র করেই সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে পায়েল চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস দ্বীপের নাম মাজুলী। উপন্যাসটি শুধু একটি ভৌগোলিক দ্বীপের কাহিনি নয়; এটি প্রকৃতি ও মানুষের অন্তর্জগতের এক গভীর সংলাপ।মাজুলী—নিজস্ব মায়া-মমতা আর কোমলতার স্পর্শে গড়ে ওঠা এক অনন্য ভূখণ্ড। প্রকৃতির বৈচিত্র্যে ভরা এই দ্বীপ যেন এক জীবন্ত চরিত্র। নদী, আকাশ, সবুজ আর নৈঃশব্দ্যের ভেতর দিয়ে লেখিকা নির্মাণ করেছেন অনুভূতির এক পরিমিত পরিসর। কিন্তু প্রকৃতির সৌন্দর্যই এই কাহিনির একমাত্র কেন্দ্র নয়। উপন্যাসের অন্তরালে রয়েছে এক হারিয়ে যাওয়া বাবাকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টা—অন্যের চোখে, অন্যের স্মৃতিতে, অন্যের অভিজ্ঞতায়। যেন এক পারস্পরিক অনুসন্ধান।মাজুলীতে এসে নায়ক জীবনের কঠিন সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ায়। যে জীবন আমরা প্রতিদিন দেখি, তার বাইরে আরেকটি অদেখা জীবন লুকিয়ে থাকে—যাকে সহজে দেখা যায় না, কখনও অনুভবও করা যায় না। কিন্তু বিশেষ কিছু স্থান, বিশেষ কিছু মুহূর্ত আমাদের সেই বিপরীত স্রোতে ভাবতে বাধ্য করে। তখনই সেই স্থান হয়ে ওঠে আশ্রয়, হয়ে ওঠে অন্তরের শান্তির ক্ষেত্র।উপন্যাস জুড়ে এই চিরন্তন অনুভূতিগুলিকে সাবলীল ও সংযত ভাষায় উপস্থাপন করেছেন লেখিকা। কোথাও বাড়াবাড়ি নেই, আবার কোথাও শূন্যতাও নয়—বরং এক মৃদু, গভীর স্রোতের মতো এগিয়ে চলে কাহিনি।ঘরে বাইরে পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি নিঃসন্দেহে সুখপাঠ্য। যারা প্রকৃতি, আত্মঅনুসন্ধান এবং সম্পর্কের অন্তর্লীন দর্শন খুঁজতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য ‘দ্বীপের নাম মাজুলী’ এক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা।