নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার বনগাঁয় ভাঙা পড়ল বিতর্কিত ‘নীল বিদ্রোহ’ ভাস্কর্য। শনিবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বনগাঁর বিজেপি বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বনগাঁর ব্যস্ততম বাটা মোড় এলাকায় থাকা একাধিক বিতর্কিত ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয় স্থানীয় মানুষজন বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর নীল বিদ্রোহের কাহিনী অবলম্বনে বনগাঁ বাটা মোড় এলাকায় তৈরি করা হয়েছিল একাধিক ভাস্কর্য। জনবহুল রাস্তার ধারে তৈরি হওয়া সেই স্ট্যাচুগুলি নিয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি ছিল স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশের। অভিযোগ, সেই সময়ের বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের আপত্তি অগ্রাহ্য করেই ভাস্কর্য নির্মাণ করেছিলেন।ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, ওই ভাস্কর্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়াবহ যানজট তৈরি হত। বিশেষ করে দিনের ব্যস্ত সময়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে ওই মূর্তিগুলি বসানো হয়েছিল, ফলে পথচলতি মানুষেরও সমস্যা বাড়ছিল প্রতিদিন।শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের একাংশ ওই ভাস্কর্যকে ২০১৮ সালের বাগদার আমডো গ্রামের পঞ্চায়েত ভোট-পরবর্তী হিংসার স্মৃতির সঙ্গে তুলনা করতেন। তাঁদের কথায়, এলাকায় অনেকে এই ভাস্কর্যকে ‘আমডোবের স্মৃতি’ বলেই উল্লেখ করতেন। সেই কারণেও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল বলে দাবি।সম্প্রতি বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান বদল হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা নতুন প্রশাসনের কাছেও একাধিকবার স্মারকলিপি জমা দিয়ে ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানান। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। শনিবার নতুন মন্ত্রী হিসেবে অশোক কীর্তনিয়ার শপথগ্রহণের পর সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।যদিও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, কারা ভাস্কর্য ভেঙেছে তা তাঁরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না। তবে এই ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা হয়েছে বলেই মত তাঁদের। অন্যদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় ছিলেন। অতিষ্ঠ হয়েই কেউ এমন কাজ করে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া জেলায় ফিরলে তাঁর সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।”ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
বনগাঁয় ক্ষোভের বিস্ফোরণ, ভেঙে ফেলা হল নীল বিদ্রোহের বিতর্কিত ভাস্কর্য