সুমন মণ্ডল : চন্দ্রকোনার মাটি থেকে ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা Abhishek Banerjee। চন্দ্রকোনা ও ঘাটাল বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে বসনছোড়া ফুটবল ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভা কার্যত রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হয়।চন্দ্রকোনা কেন্দ্রের প্রার্থী সূর্য্যকান্ত দোলই এবং ঘাটালের প্রার্থী শ্যামলী সর্দ্দারের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার—কিন্তু বাস্তবে চন্দ্রকোনা বা ঘাটালের কেউই সেই সুবিধা পাননি।

তিনি আরও দাবি করেন, ১০০ দিনের কাজ, আবাসন, পানীয় জল, সর্বশিক্ষা মিশন এবং রাস্তা নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ আটকে রেখেছে। এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, “আমরা মাছ খাই বলে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে, বাংলায় কথা বলি বলে ভাষাকে খাটো করা হচ্ছে।” পাশাপাশি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের নাম বিকৃত করে অসম্মান করার অভিযোগও তোলা হয় সভা মঞ্চ থেকে।ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে তিনি জানান, বহুদিনের প্রতীক্ষিত প্রকল্প এবার বাস্তবায়নের পথে। ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। চন্দ্রকোনা-ঘাটাল রাজ্য সড়কের খেতিয়া ব্রিজ, শিলাবতী নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণ-সহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের খতিয়ানও তুলে ধরেন তিনি।কৃষকদের নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় সভা থেকে। আলুর বাম্পার ফলনের কথা উল্লেখ করে আশ্বাস দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে উৎপাদন বেশি হলে সরকার ন্যায্য মূল্যে আলু কিনবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য আলাদা বাজেট এবং রাজ্যজুড়ে ৫০টি নতুন হিমঘর তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির জন্য কেন্দ্রকেই দায়ী করা হয়।এছাড়াও স্পষ্ট করে জানানো হয়, আলু রপ্তানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই—এই নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের। সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ চালিয়ে আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে জেতানোর আহ্বান জানান অভিষেক।শেষে দৃঢ় বার্তা—“আমরা কথা দিলে তা রাখি। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হবেই। সূর্য্যকান্ত দোলই ও শ্যামলী সর্দ্দারের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।”