স্কুলকেই ‘বাড়ি’ বানিয়ে বসবাস প্রধান শিক্ষকের! দুর্নীতির অভিযোগে রাতভর বিক্ষোভ চন্দ্রকোনায়!
নিজস্ব সংবাদদাতা : স্কুল ভবনের দোতলার একটি কক্ষেই দীর্ঘদিন ধরে বিছানা পেতে বসবাস করছেন প্রধান শিক্ষক—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায়। শুধু স্কুলে বসবাসের অভিযোগই নয়, মিড-ডে মিলের চাল সংক্রান্ত অনিয়ম-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে রবিবার রাতে স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।ঘটনাটি চন্দ্রকোনা-২ নম্বর ব্লকের ঝাঁকরা হাইস্কুলের। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সুকুমার মণ্ডল বেশ কয়েক বছর ধরে স্কুলের দোতলার একটি কক্ষ ব্যবহার করে থাকছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই ঘরে খাট, বিছানা, বালিশ, খাতাপত্রের পাশাপাশি রান্নার সরঞ্জামও রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, প্রধান শিক্ষকের নিজের বাড়ি স্কুল থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। তা সত্ত্বেও কেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ভবনের একটি কক্ষকে ব্যক্তিগত বসবাসের জন্য ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এর পাশাপাশি, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিড-ডে মিলের চাল চুরি-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখে রবিবার রাতে স্কুল চত্বরে জড়ো হন অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের একাংশ। শুরু হয় বিক্ষোভ।বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে বের করে বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি, গোটা বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক সুকুমার মণ্ডল। তাঁর দাবি, স্কুলের স্বার্থে ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্যই তিনি স্কুলে থাকেন। তাঁর আরও বক্তব্য, তাঁর আগে কয়েকজন প্রধান শিক্ষকও স্কুলেই এভাবে থাকতেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাঁকরা হাইস্কুলে কোনও হোস্টেল নেই। তা সত্ত্বেও দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক স্কুলের একটি কক্ষে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ।ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্কুলে প্রধান শিক্ষকের বসবাস এবং মিড-ডে মিল সংক্রান্ত অভিযোগ—দুই বিষয়েই প্রশাসনের তদন্তে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর এলাকাবাসীর।