অরিন্দম চক্রবর্তী : খড়গপুর শহর-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদানের আহ্বান জানালেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা প্রেস কনফারেন্সে ইন্দার গেস্ট লজে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বার্তা দেন।দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবারের নির্বাচনে বড় ইতিবাচক দিক। তাঁর কথায়, “সেন্ট্রাল ফোর্স বাংলায় এসেছে, এতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হবে। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিন এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করুন।” একই সঙ্গে তিনি ভোটদানের হার বাড়ানোর ওপর জোর দেন।খড়গপুরের ভোট সমীকরণ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি প্রার্থী দাবি করেন, লোকসভা নির্বাচনে শহরে বিজেপির ভোট বৃদ্ধি পেলেও বিধানসভায় কিছুটা কমে যায়। তবে এবার পরিস্থিতি বদলাবে বলেই তাঁর আশা।
“এইবার আমরা এক লক্ষ ভোটে জিতব,” স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।রাজ্যের বিরোধী দলগুলিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, সিপিএমের ব্যর্থতা এবং কংগ্রেস-সিপিএমের তথাকথিত দুর্নীতির রাজনীতির ফলেই তৃণমূলের উত্থান হয়েছে। তাঁর দাবি, “এই রাজ্যে একমাত্র বিজেপিই সুশাসন দিতে সক্ষম।” এমনকি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “ডাইনোসর ফিরে এলেও আসতে পারে, কিন্তু সিপিএম আর কোনোদিন বাংলায় ফিরতে পারবে না।”তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ তোলেন, দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দেওয়ার মতো আর কিছুই নেই। পাশাপাশি তৃণমূল নেতা প্রদীপ সরকারের বিরুদ্ধেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন এবং অতীতের একটি ঘটনার উল্লেখ করে রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সমালোচনা করেন।এদিন তিনি আরও জানান, ১৯ এপ্রিল ২০২৬-এ নরেন্দ্র মোদি বেলদা-নারায়ণগড়ে জনসভা করতে আসছেন। সেই সভায় তাঁর বিধানসভা এলাকা থেকে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথাও বলেন দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ বিজেপির সমস্ত প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করবে।