সেখ ওয়ারেশ আলী : রবিবার ১৯ এপ্রিল নির্বাচনের আগে শেষ রবিবার ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে জনসভা সেরে বেলদার উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তবে পথেই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা, যা মুহূর্তে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।ঝাড়গ্রাম শহরের কলেজ মোড়ে আচমকাই নিজের কনভয় থামান তিনি। তারপর হঠাৎই গাড়ি থেকে নেমে ঢুকে পড়েন স্থানীয় ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম কুমার সাউয়ের ছোট্ট দোকানে। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সামনে দেখে প্রথমে হতবাক হয়ে যান বিক্রম। মুহূর্তের মধ্যেই আশপাশে ভিড় জমে যায়—কৌতূহলী মানুষের ঢল আর ক্যামেরার ঝলকানিতে জমে ওঠে এলাকা।

দোকানে ঢুকেই হাসিমুখে মোদী বলেন, “ভাই, আপনার দোকানের ঝালমুড়ি খাওয়ান, কত দাম?” এরপর নিজের পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে দেন। বিক্রম প্রথমে টাকা নিতে না চাইলেও, প্রধানমন্ত্রী জোর করেই মূল্য পরিশোধ করেন। ঝালমুড়ি বানানোর সময় পেঁয়াজ দেবেন কি না জানতে চাইলে মোদীর রসিক জবাব—“হ্যাঁ, পেঁয়াজ খাই, শুধু নুন খাই না”—শুনে হাসির রোল ওঠে উপস্থিত জনতার মধ্যে।
শুধু খাবারই নয়, বিক্রমের সঙ্গে কথোপকথনেও মানবিক দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নাম, পরিবার এবং মাসিক আয়ের খোঁজখবরও নেন তিনি। এমনকি নিজের সঙ্গে থাকা শিশুদেরও ঝালমুড়ি খাওয়ান।

বিক্রমের হাতের মশলাদার মুড়ি তাঁর বেশ পছন্দ হয়েছে বলেও জানান।প্রধানমন্ত্রীর কনভয় চলে যাওয়ার পর থেকেই বিক্রমের দোকানে উপচে পড়ে ভিড়। “এখানেই প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খেয়েছেন”—এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন বিক্রম, তাঁর দোকানেও ভিড় করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও।এক সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতার জীবনে এই ঘটনা যেন স্বপ্নের মতো—এক মুহূর্তেই বদলে দিল তাঁর প্রতিদিনের গল্প, রেখে গেল আজীবনের স্মৃতি।