সেখ ওয়ারেশ আলী : খড়গপুরের পুরিগেট এলাকায় বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, নির্বাচনী প্রচার ঘিরে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ প্রচারে পৌঁছতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। মুহূর্তের মধ্যেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য কার্যত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ দিলীপ ঘোষের গাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টাও করে। এর জেরে পুরিগেট সংলগ্ন রাস্তা সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ শুধু দিলীপ ঘোষকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তাঁর সঙ্গে থাকা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধেও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পায়।উত্তেজনার আবহে দুই পক্ষ থেকেই ‘জয় বাংলা’ এবং ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান উঠতে থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও অগ্নিগর্ভ করে তোলে। খড়গপুর পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পুরিগেট এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ দ্রুত চড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেল সংক্রান্ত নোটিশকে কেন্দ্র করে যখন গোটা এলাকা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে ছিল, তখন কোনও বিজেপি নেতা বা কর্মীকে পাশে পাওয়া যায়নি। তাঁদের দাবি, সেই সংকটের সময় দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। ফলে ভোটের মুখে তাঁর এই আকস্মিক উপস্থিতি সেই জমে থাকা অসন্তোষকে আরও উসকে দেয়। পুরিগেট ও সংলগ্ন এলাকায় রেল-সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আগেও একাধিকবার বাসিন্দাদের বিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল।

ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হয় বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বর্তমানে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। ভোটের ঠিক আগে খড়গপুরের এই বিক্ষোভ কি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে? পুরিগেটের ক্ষোভ কি ব্যালট বাক্সেও প্রভাব ফেলবে—সেই প্রশ্নই এখন জোরালো।