পেশায় আইনজীবী, নেশায় মুদ্রা সংগ্রাহক! ৭,৯৭৪টি ১০ পয়সার মুদ্রায় ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে মেদিনীপুরের অভিজিৎ সামন্ত!

পেশায় আইনজীবী, নেশায় মুদ্রা সংগ্রাহক! ৭,৯৭৪টি ১০ পয়সার মুদ্রায় ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে মেদিনীপুরের অভিজিৎ সামন্ত!

সেখ ওয়ারেশ আলী : পেশায় তিনি একজন আইনজীবী। প্রতিদিন আদালতে আইনের জটিল ধারা, যুক্তি ও বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যেই কাটে তাঁর কর্মজীবন। তবে পেশাগত ব্যস্ততার বাইরেও রয়েছে এক ভিন্ন পরিচয়—তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ মুদ্রা সংগ্রাহক ও প্রকৃতিপ্রেমী। ছোটবেলা থেকেই বিরল ও পুরনো দিনের মুদ্রা সংগ্রহ এবং বাগান করার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ। সেই দীর্ঘদিনের শখ, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ই এবার এনে দিল জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি। পশ্চিম মেদিনীপুর শহরের শরৎপল্লি, ডাকবাংলা রোডের বাসিন্দা অভিজিৎ সামন্ত তাঁর অসাধারণ মুদ্রা সংগ্রহের জন্য স্থান করে নিয়েছেন ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ।এই স্বীকৃতি অর্জনের জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন এক অভিনব লক্ষ্য।

বর্তমানে প্রায় অপ্রচলিত হয়ে পড়া ১৯৯৭ সালের ১০ পয়সার মুদ্রা সংগ্রহে নিজেকে নিয়োজিত করেন তিনি। বছরের পর বছর ধৈর্য, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তিনি গড়ে তুলেছেন মোট ৭,৯৭৪টি ১৯৯৭ সালের ১০ পয়সার মুদ্রার এক অনন্য সংগ্রহ। এই বিরল কৃতিত্বই তাঁকে এনে দিয়েছে জাতীয় স্বীকৃতি।আদালতের ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও নিজের শখকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিজিৎ সামন্তের এই সাফল্য অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার।

তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত গর্বের বিষয় নয়, পশ্চিম মেদিনীপুর তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের কাছেও এক বিশেষ সম্মানের।এই স্বীকৃতির খবরে আনন্দে ভাসছে তাঁর পরিবার। মা, স্ত্রী সোনালি সামন্ত, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং শুভানুধ্যায়ীরা তাঁকে অভিনন্দনে ভরিয়ে দিয়েছেন।স্বামীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সোনালি সামন্ত বলেন, "আমি ভীষণ গর্বিত ও আনন্দিত।

দীর্ঘদিন ধরে অভিজিৎ অত্যন্ত নিষ্ঠা, ধৈর্য ও ভালোবাসা দিয়ে পুরনো মুদ্রা সংগ্রহ করে আসছেন। পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কখনও নিজের এই শখকে অবহেলা করেননি। তাঁর কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার স্বীকৃতি হিসেবে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া আমাদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও তিনি আরও বড় সাফল্য অর্জন করবেন এবং তাঁর এই অর্জন বহু মানুষকে নিজেদের স্বপ্ন ও শখকে বাস্তবায়িত করতে অনুপ্রাণিত করবে।"