সেখ ওয়ারেশ আলী : মেদিনীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বিজেপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শুক্রবার, ডা. শঙ্কর গুছাইতের মিছিলে নেতৃত্ব দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোনামুখী থেকে হেলিকপ্টারে এসে তিনি নামেন মেদিনীপুরের কুইকোঠা হেলিপ্যাডে। এরপর সিপাই বাজার চক থেকে স্কুল বাজার পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শো ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক রাজনৈতিক আবহ এবং জনজোয়ার।মিছিলে সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি বিজেপি শিবিরে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। প্রচারে নেমে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি আক্রমণ শানান রাজ্যের শাসক দলকে। তাঁর দাবি, “কয়েকদিন আগেই এই রাস্তায় ‘পিসিমণি’ খুব অল্প মানুষ নিয়ে হেঁটেছিলেন, কিন্তু আজকের ভিড়ই প্রমাণ করছে মানুষ তৃণমূলের উপর আস্থা হারিয়েছে।”

রাজ্যের বেকারত্ব ইস্যুকে সামনে এনে তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে যুবকদের আর ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। রাজ্যে শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্প—আয়ুষ্মান ভারত ও বিশ্বকর্মা যোজনা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন এবং “চোরমুক্ত পৌরসভা” গড়ার ডাক দেন।

এদিনের সভা থেকে ব্যবসায়ীদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে ব্যবসায়ীরা চরম চাপে রয়েছেন, বাড়ির কর ও বিদ্যুতের বিল বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। পাশাপাশি টাউন কমিটি ও মুসলিম কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।গাজন উৎসবে বক্তাদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুলিশের ভূমিকাও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য পুলিশকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে।”শেষে তিনি ২৩ তারিখের ভোটকে “জবাব দেওয়ার সুযোগ” বলে উল্লেখ করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই পৌরসভা নির্বাচন করে “মানুষের পৌরসভা” প্রতিষ্ঠা করা হবে।