গোল নষ্টের মাশুল,আইএসএলে প্রথম ম্যাচেই হার সবুজ-মেরুনের
নিজস্ব সংবাদদাতা:আইএসএলের শুরুতেই হোঁচট খেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র কাছে ০-১ গোলে পরাজিত হয়ে অভিযান শুরু করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন জিতিন এমএস। তবে এই হার প্রতিপক্ষের দাপটের চেয়ে মোহনবাগানের নিজেদের ভুল এবং একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করার ফলেই বেশি করে সামনে এল। আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডার্বি জিতে যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল দল, গুয়াহাটিতে তা কার্যত ধাক্কা খেল।ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মোহনবাগান। অষ্টম মিনিটেই লি আরউইনের জোরালো শট নর্থইস্টের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। সেই শট গোলে পরিণত হলে ম্যাচের চিত্র অন্য রকম হতে পারত। কিন্তু প্রথম সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই গোলের সামনে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দেয় সবুজ-মেরুন শিবির।জেমি ম্যাকলারেনের অনুপস্থিতিতে আক্রমণের মূল দায়িত্ব ছিল লি আরউইনের উপর। কিন্তু একাধিক সুযোগ পেয়েও গোলের মুখ খুলতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন আরউইন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটেও তাঁর সামনে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। নর্থইস্টের গোলরক্ষক গুরমীত সিং প্রথম প্রচেষ্টা রুখে দিলেও, ফিরতি বল কার্যত ফাঁকা গোলে জড়াতে ব্যর্থ হন মোহনবাগানের এই আক্রমণভাগের ফুটবলার।শুধু আরউইন নন, গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি পরিবর্ত হিসেবে নামা মিগুয়েলও। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর ক্রস থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেল আহমেদ ভাট। সঠিক জায়গায় পৌঁছেও তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। একের পর এক এমন সুযোগ নষ্টের খেসারত শেষ পর্যন্ত দিতে হল মোহনবাগানকে।

অন্যদিকে, নর্থইস্ট ইউনাইটেড বল দখল এবং গোলমুখী শটের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল। যদিও গোটা ম্যাচে তাদের আক্রমণে খুব বেশি ধার চোখে পড়েনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা।সংযোজিত সময়ের ৯২ মিনিটে আলাদিনের দূরপাল্লার শট কোনওরকমে রুখে দেন মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। কিন্তু ফিরতি বলের নাগাল পেয়ে যান জিতিন এমএস। তাঁর গোলে এগিয়ে যায় নর্থইস্ট ইউনাইটেড। ম্যাচের একেবারে শেষলগ্নে এই ধাক্কা সামলে ওঠার সময় আর পায়নি সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

ডার্বির নায়ক সমির জেলকোভিচ এ দিন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অভিষেক টেকচাম, আপুইয়া-সহ দলের একাধিক ফুটবলারের পারফরম্যান্সও নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়। প্রথম একাদশে মনবীর সিংয়ের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডার্বিতে নজর কাড়া জেলকোভিচ ও ডেজন ড্রাজিচ প্রথম একাদশে থাকলেও দলের আক্রমণে ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। ডুরান্ড কাপ, আইএফএ শিল্ডের পর নতুন টুর্নামেন্টেও মোহনবাগানের ফিটনেস, বোঝাপড়া এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। বক্সের মধ্যে পৌঁছেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা, দুর্বল ফিনিশিং এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই হয়ে উঠল পরাজয়ের অন্যতম কারণ।আইএসএলের শুরুতেই মোহনবাগানের এই হার সমর্থকদের মনে হতাশার ছায়া ফেলল। এখন প্রশ্ন, পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের পথে ফিরতে পারবেন কি কোচ প্যানোস স্যারিস এবং তাঁর দল? নাকি গোলের সামনে এই ব্যর্থতাই আগামী দিনেও ভোগাবে সবুজ-মেরুনকে?