Skip to content

ভোটের দিন ঘোষণা হতেই বাঁকুড়ায় বিজেপির অন্দরে বিক্ষোভ! দুই বিধায়ককে প্রার্থী না করার দাবিতে পথে কর্মীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই প্রকাশ্যে এল বিজেপির অন্দরের অসন্তোষ। যে বাঁকুড়া জেলায় গত বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি, সেই জেলাতেই এবার দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে অস্বস্তিতে পদ্মশিবির। প্রার্থী তালিকা এখনও প্রকাশ না হলেও, দুই বর্তমান বিধায়ককে ফের প্রার্থী না করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন কর্মীদের একাংশ। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার শালতোড়া ও ছাতনা বিধানসভা এলাকায়। এই দুই কেন্দ্র থেকেই গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জয় পেয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে এই দুই বিধানসভা এলাকায় বিজেপির থেকে এগিয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ফলের পর থেকেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ জমতে শুরু করে বলে জানা গিয়েছে।

রবিবার নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করার পরই সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে। সন্ধ্যার পর শালতোড়া বাজার এলাকায় মিছিল করেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, শালতোড়ার বর্তমান বিধায়ক চন্দনা বাউরীকে যেন এবার আর প্রার্থী করা না হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনে জয়ের পর থেকে বিধায়ক দলীয় কর্মীদের প্রতি উদাসীন থেকেছেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। শালতোড়ার বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতা সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চন্দনা বাউরী যদি আবার প্রার্থী হন, তাহলে এলাকায় অশান্তি তৈরি হবে। কর্মীরা রক্ত জল করে তাঁকে জিতিয়েছিলেন, কিন্তু জয়ের পর তিনি কর্মীদের পাশে থাকেননি।” একইসঙ্গে ছাতনা বিধানসভা এলাকাতেও দেখা গিয়েছে একই ছবি। বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়কে পুনরায় প্রার্থী না করার দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার পড়েছে। ছাতনা বাজার, লোহাগড় মোড় এবং ঝাঁটিপাহাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই পোস্টার ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। স্থানীয় কর্মীদের দাবি, নতুন মুখকে প্রার্থী করা হলে তবেই এই আসনে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে।

যদিও পুরো ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। জেলা নেতা সব্যসাচী রায়ের দাবি, এই বিক্ষোভ আসলে বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। তাঁর অভিযোগ, “যাঁরা চন্দনা বাউরীর বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন, তাঁরা তৃণমূলের আশ্রয়ে থাকা লোক। গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁরা বিজেপির হয়ে কাজ করেননি। বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা দেখে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে এই বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।” এদিকে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল কংগ্রেস। বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “শুধু বাঁকুড়া নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গেই বিজেপি বিধায়কদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। বিজেপির মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে, তারই বহিঃপ্রকাশ এই বিক্ষোভ।” ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার আগেই দলীয় কর্মীদের এই প্রকাশ্য বিক্ষোভ বিজেপির জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার, দলীয় নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত এই দুই কেন্দ্রে কাকে প্রার্থী করা হয়।

Latest