Skip to content

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক মুখ্য ডাকঘরে ইমেলে বোমা হুমকি, আতঙ্কে রাস্তায় নামলেন প্রায় ২০০ জন!

1 min read

নিজস্ব সংবাদদাতা : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি। ভরদুপুরে স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যস্ত ছিল তমলুকের মুখ্য ডাকঘর। কেউ টাকা জমা দিচ্ছেন, কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র পাঠানোর অপেক্ষায়। ঠিক সেই সময় পোস্টমাস্টারের কম্পিউটারে এসে পৌঁছয় একটি ইমেল। আর সেই মেল খুলতেই চমকে ওঠেন কর্তৃপক্ষ—বার্তায় স্পষ্ট হুমকি, “ডাকঘরে বোমা রাখা আছে, অবিলম্বে অফিস খালি করুন।” এক নিমেষে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে Tamluk Head Post Office-এ। ছড়িয়ে পড়ে তীব্র বোমাতঙ্ক। প্রাণভয়ে কর্মী ও গ্রাহকরা ছুটে বেরিয়ে আসেন ভবনের বাইরে।

প্রায় ২০০ জন মানুষ মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় Tamluk Police Station-এর পুলিশ।ডাকঘর সূত্রে জানা গিয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ পোস্টমাস্টারের কাছে ওই উড়ো ইমেলটি আসে। সেখানে দাবি করা হয়, ডাকঘর চত্বরে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং অবিলম্বে ভবন খালি না করলে বিপদ হতে পারে। কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ভবন খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই ভেতরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। কাউন্টার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কর্মীরা, গ্রাহকরাও আতঙ্কে দ্রুত বাইরে চলে যান। পোস্টাল এজেন্টরা তড়িঘড়ি নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত সকলে।

দীর্ঘদিনের পোস্টাল এজেন্ট তরুণ কুমার জানা বলেন, “সাড়ে এগারোটা নাগাদ একটি মেল আসার খবর পাই। আমাদের বলা হয় দুপুর দু’টো পর্যন্ত বাইরে থাকতে, যে কোনও সময় বিপদ হতে পারে। এত দ্রুত সবাইকে বের করে দেওয়া হয় যে বুঝে ওঠার সময়ই ছিল না। এমন ঘটনা আগে কখনও দেখিনি।”আর এক এজেন্ট ফাল্গুনী ভট্টাচার্যও জানান, “বোমাতঙ্কে কার্যত হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় ২০০ জন তখন ভেতরে ছিলেন। ওপর মহল থেকে ইমেল আসার কথা শুনেই সবাই দৌড়ে বাইরে চলে আসি।”ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত কী উদ্ধার হয়েছে, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ইমেলটি ভুয়ো নাকি সত্যিই কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ—খতিয়ে দেখা হচ্ছে সমস্ত দিক।

Latest