নিজস্ব সংবাদদাতা : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশ পর্তুগাল ও স্পেন। ডালাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’ শুধু দুই ফুটবল শক্তির সংঘর্ষই নয়, এটি যেন দুই প্রজন্মের মুখোমুখি লড়াইও। একদিকে ৪১ বছর বয়সী কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে মাত্র ১৮ বছরের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। গত বছরের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। ফলে সেই হারের বদলা নেওয়ার বাড়তি প্রেরণাও থাকবে স্প্যানিশ শিবিরে। বিশ্বকাপের শুরুটা গোলশূন্য ড্র দিয়ে হলেও এরপর ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দে ফিরে এসেছে স্পেন। দারুণ আক্রমণভাগ, নিখুঁত পাসিং ফুটবল এবং শক্তিশালী রক্ষণ নিয়ে এখন টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে 'লা রোহা'। টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে স্প্যানিশরা।

অন্যদিকে পর্তুগালের যাত্রাপথ ছিল অনেক বেশি কঠিন। গ্রুপ পর্বে উজবেকিস্তানকে হারালেও ডিআর কঙ্গো ও কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করতে হয়। শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রোনালদোর দল। ৪১ বছর বয়সেও পর্তুগালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যদিও আগের মতো বিস্ফোরক পারফরম্যান্স আর দেখা যায় না, তবুও তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জোর জল্পনা ছিল, এটাই হতে পারে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। তাঁর বোনও ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টের পর জাতীয় দলের জার্সিতে হয়তো আর দেখা যাবে না পাঁচবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকাকে। ফলে স্পেনের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি শুধুই শেষ ষোলোর লড়াই নয়, এটি হয়তো রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে। বিশ্বকাপ ট্রফিই একমাত্র বড় শিরোপা, যা এখনও তাঁর বর্ণময় ক্যারিয়ারের ট্রফি ক্যাবিনেটে নেই।

এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র অথবা বেলজিয়াম-এর। ফলে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে কোনও ভুলের সুযোগ নেই। বিশ্বকাপের এই মহারণে একদিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের সুপারস্টারের উত্থান—সব মিলিয়ে ডালাসের এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন পর্তুগাল বনাম স্পেন মহারণের দিকেই।