ফ্রান্স - ১ (এমবাপে-পেনাল্টি)| প্যারাগুয়ে - ০
নিজস্ব সংবাদদাতা : প্যারাগুয়ের দুরন্ত প্রতিরোধ ভেঙে শেষ আটে ফ্রান্স, নায়ক কিলিয়ান এমবাপে!বিশ্বকাপে এবার প্রথমবারের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল ফ্রান্স। গ্রুপ পর্ব ও আগের ম্যাচগুলোর মতো গোলের বন্যা না বইয়ে, প্যারাগুয়ের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ভাঙতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। শেষ পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল বর্তমান রানার্স-আপরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ফ্রান্সের। তবে প্যারাগুয়ের সংগঠিত রক্ষণ এবং শারীরিক ফুটবল বারবার আটকে দেয় এমবাপে, উসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল অলিসেদের আক্রমণ। একের পর এক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে পারেনি ফরাসিরা।

অবশেষে ম্যাচের ৭০তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় প্যারাগুয়ে। তবে ফরাসি রক্ষণও ছিল সমান দৃঢ়। অতিরিক্ত সময়ের সংযোজিত মুহূর্তে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান এমবাপে। মাইকেল অলিসের পাস থেকে নেওয়া তাঁর প্রথম শট আটকে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ফিরতি শটও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন তিনি।

এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ালেন এমবাপে। বর্তমানে টুর্নামেন্টে তাঁর মোট গোল ১৯, যা লিওনেল মেসির ২০ গোলের রেকর্ডের মাত্র এক ধাপ নিচে।যদিও জয় নিয়ে শেষ আটে পৌঁছেছে ফ্রান্স, তবুও দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় থাকবেন কোচ দিদিয়ের দেশঁ। কারণ আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় এদিন অনেকটাই ছন্দহীন দেখিয়েছে ফরাসি আক্রমণ। অন্যদিকে, হারলেও দুর্দান্ত লড়াই করেছে প্যারাগুয়ে। অরল্যান্ডো গিলের নেতৃত্বে তাদের সুসংগঠিত রক্ষণ ও শারীরিক ফুটবল বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দীর্ঘ সময় চাপে রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত জায়ান্টকিলারের স্বপ্ন পূরণ না হলেও নিজেদের লড়াকু পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের সামনে অপেক্ষা করছে মরক্কো। সেই ম্যাচে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে এমবাপে-দেশঁর দল।