বর্ধমানে কুনুর নদীতে ভেসে উঠছে রুই-কাতলা-মৃগেল, মাছ ধরতে হুড়োহুড়ি!

বর্ধমানে কুনুর নদীতে ভেসে উঠছে রুই-কাতলা-মৃগেল, মাছ ধরতে হুড়োহুড়ি!
ছবি সমাজ মাধ্যম থেকে নেওয়া। 

নিজস্ব সংবাদদাতা: কুনুর নদীর জলে দূষণের জেরে টন টন মাছ মরে ভেসে ওঠার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান এলাকায়। নদীর জলে রাসায়নিক দূষণের আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোনও শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত ক্ষতিকর রাসায়নিক বর্জ্য নদীর জলে মিশে যাওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে। তবে দূষণের প্রকৃত উৎস ও মাছের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।নদীতে মাছ মরে ভেসে ওঠার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের গ্রামের বহু মানুষ জাল, বালতি ও ঘুণি নিয়ে মাছ সংগ্রহ করতে নদীতে নেমে পড়েন। নদী থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল-সহ নানা প্রজাতির ছোট-বড় মাছ তুলতে দেখা যায়। অভিযোগ, সংগৃহীত মৃত ও আংশিক মৃত মাছের একাংশ নিজেদের খাওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনকি কিছু মাছ বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক দূষণে আক্রান্ত জলজ পরিবেশে থাকা মাছের শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ জমা হতে পারে। সেই মাছ খেলে মানবদেহে বিষক্রিয়া-সহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। দূষণের প্রকৃতি ও মাত্রার উপর নির্ভর করে এই বিপদ আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।তাই নদীর জল ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে দূষণের প্রকৃতি নির্ধারণ এবং মাছ খাওয়ার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত নদী থেকে সংগ্রহ করা মৃত বা অসুস্থ মাছ খাওয়া কিংবা বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, কুনুর নদীতে এর আগেও মাছ মরে ভেসে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তাঁদের দাবি। নদীর উপর নির্ভরশীল বহু মানুষের জীবিকা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। পাশাপাশি মাছের ব্যাপক মৃত্যুর ফলে নদীর জলজ বাস্তুতন্ত্রের উপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদীর দূষণের উৎস চিহ্নিত করা, সম্ভাব্য শিল্পবর্জ্য নির্গমনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নদীর জল ও মৃত মাছের নমুনা পরীক্ষা, দূষণের মাত্রা নির্ধারণ এবং নদীর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n