অবসর তাঁকে থামাতে পারেনি, প্রতিদিন স্কুলে ছুটে আসেন গঙ্গাধরবাবু—বেতনের টাকা দিয়ে গড়েছেন পড়ুয়াদের স্বপ্ন!

অবসর তাঁকে থামাতে পারেনি, প্রতিদিন স্কুলে ছুটে আসেন গঙ্গাধরবাবু—বেতনের টাকা দিয়ে গড়েছেন পড়ুয়াদের স্বপ্ন!
শিক্ষক গঙ্গাধর পাল। ছবি: সমাজ মাধ্যম থেকে নেওয়া।

নিজস্ব সংবাদদাতা :চাকরি শেষ হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ববোধ শেষ হয়নি। অবসর নেওয়ার পরেও প্রতিদিন নিয়ম করে স্কুলে আসেন। ক্লাস নেন, পড়ুয়াদের সঙ্গে সময় কাটান, তাঁদের পড়াশোনার খোঁজ নেন। শিক্ষকতার প্রতি এমনই অদম্য টান পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার কুতুবপুর মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক গঙ্গাধর পাল-র।২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অবসর নিয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপর থেকে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একদিনের জন্যও ছিন্ন হয়নি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হয়েও নিয়মিত ক্লাস নিয়ে চলেছেন তিনি।তবে গঙ্গাধর পালের গল্প শুধু অবসরের পরেও পড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিজের উপার্জনের সিংহভাগই তিনি উৎসর্গ করেছেন বিদ্যালয়ের জন্য। চাকরিজীবনে পাওয়া বেতনের মধ্যে নিজের জন্য রেখেছেন মাত্র এক টাকা। সেই এক টাকাকে ‘গুরুদক্ষিণা’ হিসেবে রেখে বাকি অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় করেছেন।স্কুলের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি হয়েছে শৌচালয়, শ্রেণিকক্ষ, চেয়ার-বেঞ্চ। গড়ে উঠেছে লাইব্রেরি, পানীয় জলের ব্যবস্থা হয়েছে, আলো লাগানো হয়েছে। পড়ুয়াদের প্রয়োজনকে সামনে রেখে নিজের সঞ্চয় থেকে একের পর এক কাজ করে গিয়েছেন তিনি।গঙ্গাধরবাবুর এই মানসিকতার পিছনে রয়েছেন তাঁর মা। ছোটবেলায় মায়ের দেওয়া একটি কথাই আজও তিনি মনে রেখেছেন—সংসারে অভাব না থাকলেও তাঁর স্কুলের বহু পড়ুয়ার বই-খাতা কেনার সামর্থ্য নেই। সুযোগ পেলে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সেই কথাকেই জীবনের আদর্শ করে নিয়েছেন তিনি।অবসরের পর স্কুলের শিক্ষক-সংকটও তাঁকে ভাবিয়েছে। তাই নিজের সঞ্চয় থেকে ছয় লক্ষ টাকা রেখে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের জন্য। সেই অর্থের সুদ থেকে বর্তমানে দু’জন শিক্ষককে পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে। সরকারি নিয়োগ না হলেও পড়ুয়াদের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তিনি।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, গঙ্গাধর পালের এই উদ্যোগ সত্যিই মহৎ।চাকরিজীবনে ছুটি নিয়েছেন মাত্র তিন দিন। অবসরের পরেও প্রতিদিন স্কুলে আসা—সব মিলিয়ে গঙ্গাধর পাল যেন প্রমাণ করে চলেছেন, শিক্ষকের চাকরি শেষ হতে পারে, কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের প্রতি দায়িত্ব কখনও অবসর নেয় না।