সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য ও গুরুত্বের বার্তা, নান্দাড়িয়া শাস্ত্রী স্মৃতি বিদ্যাপীঠে বর্ণাঢ্য সংস্কৃত দিবস পালন

সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য ও গুরুত্বের বার্তা, নান্দাড়িয়া শাস্ত্রী স্মৃতি বিদ্যাপীঠে বর্ণাঢ্য সংস্কৃত দিবস পালন

নিজস্ব সংবাদদাতা : শালবনি ব্লকের নান্দাড়িয়া শাস্ত্রী স্মৃতি বিদ্যাপীঠ (উচ্চ মাধ্যমিক) বিদ্যালয়ে সোমবার মহা সমারোহে পালিত হল সংস্কৃত দিবস। প্রাচীন এই ভাষার ঐতিহ্য, গুরুত্ব ও বর্তমান সময়ে তার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে বিদ্যালয়ে দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে দেবী সরস্বতীর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায়-সহ শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এরপর বেদমন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে একত্রে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।সংস্কৃত ভাষার শিক্ষা ও তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিষয়ের শিক্ষক নীলমণি মণ্ডল। দীর্ঘক্ষণ সংস্কৃত ভাষাতেই বক্তব্য রেখে তিনি ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্রাচীন এই ভাষার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।নীলমণি মণ্ডল তাঁর বক্তব্যে সংস্কৃত ভাষার প্রাচীনত্ব এবং ভারতীয় জ্ঞানচর্চায় এর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। প্রাচীন আয়ুর্বেদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সংস্কৃত ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারের গুরুত্বও তিনি ব্যাখ্যা করেন। পাশাপাশি সংস্কৃত শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিনয়, সংযম, নম্রতা ও শিষ্টাচারের মতো গুণের বিকাশ ঘটতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।শুধু বক্তব্য নয়, সংস্কৃত দিবস উপলক্ষে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত হয় কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন, গল্প বলা-সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেয় পড়ুয়ারা।সংস্কৃত দিবসের এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরাও। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিওর মাধ্যমে মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা দীপান্বিতা ঘোষ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার প্রোজেক্টরের মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে দেখানো হবে।সংস্কৃত দিবসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের মধ্যে সংস্কৃত ভাষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, তেমনই ভারতীয় ভাষা ও জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করানোর বার্তাও উঠে এসেছে।