উৎসবের আনন্দে প্রবীণদের পাশে SB XI মেদিনীপুর
নিজস্ব সংবাদদাতা: দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ, উৎসব আর নতুনের আহ্বান। কিন্তু সেই আনন্দ যদি সমাজের প্রবীণ মানুষদের মুখেও হাসি ফোটাতে পারে, তবেই উৎসব হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ। শারদোৎসবের প্রাক্কালে মানবিকতার এমনই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মেদিনীপুরের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল দল SB XI মেদিনীপুর। মেদিনীপুর পৌরসভা পরিচালিত বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে শারদীয়ার আনন্দ ভাগ করে নিতে এগিয়ে এলেন ক্লাবের সদস্যরা। প্রতি বছরের মতো এ বছরও তাঁদের উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রমের মহিলা আবাসিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শাড়ি এবং প্রবীণ পুরুষদের জন্য রাখা হয় লুঙ্গি। উৎসবের মরশুমে এই উপহার ও আন্তরিকতার ছোঁয়া আবাসিকদের কাছে পুজোর আনন্দকে আরও বিশেষ করে তুলল।

ক্লাবের সদস্যদের এই উদ্যোগ কেবল বস্ত্র বিতরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রবীণ মানুষদের পাশে থাকার এক আন্তরিক অঙ্গীকার। তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, তাঁদের সময় দেওয়া এবং উৎসবের দিনগুলিতে আপনজনের মতো পাশে থাকার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এই উদ্যোগের প্রকৃত তাৎপর্য।

এখানেই শেষ নয়। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও দুর্গাপুজোর একটি দিন ক্লাবের সমস্ত সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে পুজোর মণ্ডপ পরিদর্শনে বেরোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা। বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার এই পরিকল্পনা তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মানসিকতার পরিচয় বহন করে। ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা আর মাঠের বাইরে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই SB XI মেদিনীপুরের উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। তাঁদের এই প্রয়াস যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, পুজোর প্রকৃত আনন্দ শুধু নিজের জন্য নয়, সেই আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া সকলের মাঝে। উৎসবের আলোয় প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটানোর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শারদোৎসবের মানবিক বার্তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল।

দলের কর্ণধার আবির আগারওয়াল বলেন, “প্রবীণরা আমাদের সমাজ ও পরিবারের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। পুজোর আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আগামী দিনেও SB XI মেদিনীপুর ফুটবল খেলার পাশাপাশি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই ধরনের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে।”