অভিজিৎ সাহা : বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়ায় গাফিলতি, অসঙ্গতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে সাতজন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (AERO)-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশের কথা জানানো হয়।কমিশনের নির্দেশিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁরা হলেন— ক্যানিং পূর্বের AERO সত্যজিৎ দাস (জয়েন্ট বিডিও), জয়দ্বীপ কুণ্ডু, ময়নাগুড়ির ডালিয়া রায়চৌধুরী, সুতির শেখ মুরশিদ আলম, ফারাক্কার নীতিশ দাস এবং সামশেরগঞ্জের সিয়াফুর রহমান। কমিশনের দাবি, SIR সংক্রান্ত কাজে একাধিকবার মাইক্রো অবজ়ার্ভাররা সতর্ক করলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তা উপেক্ষা করেছেন।রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, ২০০০ সালের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রাজ্যের আধিকারিকদের সাসপেন্ড করতে পারে।আবাস যোজনার নথি গ্রহণযোগ্য নয়: এদিকে সোমবার সকালে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের CEO দপ্তরে চিঠি দিয়ে জানায়, SIR প্রক্রিয়ায় ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বা ‘বাংলার বাড়ি যোজনা’-র অনুমোদনপত্র বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে না। এর ফলে যাঁরা শুধুমাত্র আবাস যোজনার কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে CEO দপ্তর স্পষ্ট করেছে, যদি কোনও ভোটার আবাস যোজনার নথির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত অন্য নথিও জমা দিয়ে থাকেন, তবে সেই নথি বিবেচনা করা হবে।কমিশন আরও জানিয়েছে, যদি প্রমাণিত হয় যে কোনও ERO অন্য গ্রহণযোগ্য নথি আপলোড না করে থাকেন, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের করণীয় কী? নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধুমাত্র আবাস যোজনার নথি জমা দেওয়ার কারণে কারও নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেও তাঁরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে প্রথমে জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) এবং পরে রাজ্যের CEO-র কাছে আবেদন করে নতুন নথি জমা দিয়ে পুনরায় ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। কমিশনের দাবি, ৯টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলা SIR প্রক্রিয়ার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই এই ধরনের ‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।