নিজস্ব সংবাদদাতা : সাঁতার শুধু প্রতিযোগিতা বা পদক জয়ের বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। বিপদের মুহূর্তে সাঁতার জানা একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে। এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিশ্ব জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরে বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (সিনি) এবং মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ছিল সচেতনতামূলক র্যালি, জল-নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা, সাঁতার প্রতিযোগিতা, ওয়াটার পোলো, ডাইভিং এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আয়োজকদের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপদ সাঁতার শেখার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং জল-নিরাপত্তাকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দেওয়া।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বিধায়ক ডা. শঙ্কর গুছাইত, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর সৌম্যশংকর ষড়ঙ্গী, মেদিনীপুর সুইমিং ক্লাবের সম্পাদক পল্লব কিশোর চট্টোপাধ্যায়, কার্যকরী সভাপতি আশিস চক্রবর্তী, সভাপতি অতনু ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ঘোষ এবং জাতীয় সাঁতারু আফরিন জাবি।সাম্প্রতিক সমীক্ষায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপদ সাঁতার শেখানো, ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয় সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ধার ও জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভারত সরকারের জাতীয় অনিচ্ছাকৃত আঘাত প্রতিরোধ নির্দেশিকাতেও জলে ডুবে মৃত্যু রোধে নিরাপদ সাঁতার শেখাকে অন্যতম কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সচেতনতামূলক র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত মেদিনীপুর কোতোয়ালি মহিলা থানার ইন্সপেক্টর কবিতা দাস।

সিনির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি অফিসার সুজয় রায়, জেলা সঞ্চালক গৌতম মণ্ডল এবং নৈরিতা দাস।সিনির ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি অফিসার সুজয় রায় বলেন, “নিরাপদ সাঁতার শেখানো, শিশুদের নিরাপদ তত্ত্বাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা, উদ্ধার ও সিপিআর প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতা—এই পাঁচটি বিষয়কে শক্তিশালী করতে পারলেই জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। সাঁতার কোনও বিলাসিতা নয়, এটি প্রত্যেক শিশুর জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হওয়া উচিত।”তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সিনির উদ্যোগে নিরাপদ শিশু সুরক্ষা কেন্দ্র, ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরে সুরক্ষা বেড়া, নিরাপদ সাঁতার প্রশিক্ষণ, উদ্ধার ও সিপিআর প্রশিক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফ্রিস্টাইল, ব্যাকস্ট্রোক, ব্রেস্টস্ট্রোক ও বাটারফ্লাই বিভাগে সাঁতার প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ওয়াটার পোলো ও ডাইভিং-এর। বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৮০ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। সফল প্রতিযোগীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিধায়ক ডা. শঙ্কর গুছাইত।আয়োজকদের পক্ষ থেকে সুস্মিতা পট্টনায়ক জানান, ১০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং অসমেও বিশ্ব জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ বছরের আন্তর্জাতিক থিম—‘ইউনাইট টু টার্ন দ্য টাইড’।অনুষ্ঠানের শেষে প্রত্যেককে জল-নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকার এবং শিশুদের নিরাপদে সাঁতার শেখানোর আহ্বান জানানো হয়।