Skip to content

“সরকার বদলেছে, প্রকল্প নয়” — প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

অভিজিৎ সাহা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল— লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো জনমুখী সামাজিক প্রকল্পগুলি কি বন্ধ হয়ে যাবে? সেই জল্পনারই কার্যত অবসান ঘটালেন Suvendu Adhikari। সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ হবে না।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চালু থাকবে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আনা হবে স্বচ্ছতা। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বা অবৈধভাবে তালিকাভুক্ত কেউ যাতে সরকারি সুবিধা না পান, তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ‘অভারতীয়’দের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা রোধে কড়া অবস্থানের কথাও জানান তিনি। পূর্বতন সরকারের আমলে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই প্রকল্প ছিল ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘স্বাস্থ্যসাথী’। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ মহিলারা মাসিক ১,৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,৭০০ টাকা ভাতা পেতেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালু ছিল। নতুন সরকার সেই সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়ায় স্বস্তির হাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এদিনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ক্যাবিনেটের ছয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত:
১) ৩২১ জন নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেবে রাজ্য সরকার।
২) সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি হস্তান্তর।
৩) ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের অন্তর্ভুক্তি।
৪) আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের অনুমতি।
৫) রাজ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করার ঘোষণা।
৬) সরকারি চাকরির আবেদনকারীদের বয়সসীমায় অতিরিক্ত ৫ বছরের ছাড়।
এর পাশাপাশি সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখাই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

Latest