নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের সরকারি দপ্তরে কর্মসংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল নবগঠিত বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে একাধিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সরকারি কর্মীদের জন্য জারি হল কড়া সময়বিধি।মঙ্গলবার রাইটার্স বিল্ডিং থেকে রাজ্য সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, সমস্ত সরকারি কর্মচারীকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। পাশাপাশি বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস ছাড়ার অনুমতি থাকবে না। এমনকি অফিস চলাকালীন অকারণে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে একাধিক দপ্তরে কাজের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিষেবা যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি দপ্তরে সময়ানুবর্তিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, বহু ক্ষেত্রে সরকারি কাজ সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে না। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।একসময় বাম আমলে সরকারি দপ্তরের কাজ নিয়ে “আঠেরো মাসে বছর” প্রবাদটি বহুল প্রচলিত ছিল। পরে তৃণমূল সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কর্মসংস্কৃতি উন্নয়নে জোর দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ ছুটি ও শিথিল অফিস ব্যবস্থাকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন সময়ে।এবার নতুন বিজেপি সরকার প্রশাসনে আরও বেশি শৃঙ্খলা আনতে মরিয়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরকারি কর্মীদের সময়মতো উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অফিসে থাকার নির্দেশ সেই বার্তাকেই স্পষ্ট করছে।এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই সরকারি কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, এতে কাজের গতি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত পরিষেবা পাবেন। আবার অনেকের মতে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি কর্মীদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।তবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট — সরকারি কাজে আর কোনও ঢিলেমি নয়, সময় মেনেই চলতে হবে সবাইকে।
অফিসে গা-ছাড়া মনোভাব শেষ! সময় মেনে হাজিরা বাধ্যতামূলক সরকারি কর্মীদের