নিজস্ব সংবাদদাতা : ২১ জুলাইয়ের আগের রাত থেকেই পথে নেমে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে নেত্রীর নেতৃত্বে বছরের পর বছর ধরে পালিত হয়েছে ২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’, সেই নেত্রীকেই সোমবার রাতভর মঞ্চ আগলে থাকতে দেখা যায়।

তবে এবার ছবিটা কিছুটা আলাদা। দলের ‘দুর্দিনে’ কর্মীদের পাতে নেই ডিম-ভাত, নেই মণ্ডা-মিঠাই। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে জড়ো হওয়া কালীঘাট তৃণমূলের কর্মীদের অনেকের ভরসা সেই শুকনো মুড়ি আর কাঁচা লঙ্কা। কিন্তু খাবারের সরলতায় তাঁদের মুখে বিন্দুমাত্র বিষাদের ছাপ নেই। বরং চোখেমুখে স্পষ্ট লড়াইয়ের জেদ—‘কুছ পরোয়া নেহি’।কর্মীদের একাংশের কথায়, রাজনীতির পথ কখনও সমান থাকে না। ক্ষমতার আলো যখন তীব্র ছিল, তখন কর্মীদের পাতে হয়তো থাকত গরম ডিম-ভাত কিংবা মিষ্টি। কিন্তু আজ পরিস্থিতি কঠিন, পকেটে টান, চারপাশে অনিশ্চয়তা। তবুও পতাকা ধরা হাত আলগা হয়নি।এক কর্মীর কথায়, ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছনোর বহু আগে থেকেই শুকনো মুড়ি ছিল তাঁদের লড়াইয়ের অন্যতম ভরসা। মিছিলে হাঁটার আগে কিংবা পোস্টার সাঁটতে সাঁটতে ক্লান্ত দুপুরে একমুঠো মুড়িই জোগাত শক্তি। আজ সময় বদলেছে, পরিস্থিতিও বদলেছে। কিন্তু লড়াইয়ের তাগিদে সেই পুরনো ভরসাতেই যেন আবার ফিরে যেতে হয়েছে।তাই ২১ জুলাইয়ের আগে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মুড়ি-কাঁচালঙ্কার এই সাধারণ খাবারই যেন অন্য এক বার্তা বহন করছে—দুর্দিন এলেও লড়াই থামছে না, দলের প্রতি কর্মীদের আনুগত্যও এখনও অটুট।