নিজস্ব সংবাদদাতা: বিহারের নালন্দা জেলার বিহার শরিফের শীতলা মন্দিরে মহাবীর জয়ন্তী ও চৈত্র মাসের শেষ মঙ্গলবার উপলক্ষে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত ৮ জন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একাধিক ভক্ত। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে অন্তত ছয় থেকে বারো জনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর থেকেই শীতলা মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে ভিড়ের চাপ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মন্দির চত্বরে করা ব্যারিকেড আচমকা ভেঙে পড়তেই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বহু মানুষ একে অপরের উপর পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হন।

স্থানীয় বাসিন্দা ললিত কুমারের অভিযোগ, “আজ মহাবীর জয়ন্তী, তার উপর মঙ্গলবার হওয়ায় ভক্তসমাগম ছিল অসাধারণ। ব্যারিকেড ভেঙে যেতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনেকেই বলছেন, সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না।” এই অভিযোগ ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। মন্দির চত্বরও খালি করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিহার সরকার। গাফিলতি বা নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পটনা থেকে বিশেষ আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরি সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিবারকে সবরকম সরকারি সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের দিনে বিপুল ভিড়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও পুলিশি ব্যবস্থা ছিল না, তা নিয়েই এখন জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে হয়তো এড়ানো যেত এই প্রাণহানি।