বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশাত্মবোধের আবেগ, হাজারো কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’!

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশাত্মবোধের আবেগ, হাজারো কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’!

নিজস্ব সংবাদদাতা : স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনাকে আরও শক্তিশালী করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ আগস্ট আয়োজিত হল একাধিক দেশাত্মবোধক ও ঐতিহাসিক কর্মসূচি। দিনভর চলা এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারেরও বেশি পড়ুয়া উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

দিনের কর্মসূচির সূচনা হয় বর্ণময় মানববন্ধন-এর মাধ্যমে। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়ারা মানববন্ধনে অংশ নেন। জাতীয় পতাকা হাতে ছাত্রছাত্রীদের এই দীর্ঘ মানববন্ধন জাতীয় ঐক্য, সংহতি এবং দেশের প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতীক হয়ে ওঠে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর দীপক কুমার কর, স্থানীয় বিধায়ক ড. শঙ্কর কুমার গুছাইত, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. জে. কে. নন্দী, ডিন, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স প্রফেসর পারেশচন্দ্র জানা, প্রফেসর দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, NSS Programme Coordinator, সিনিয়র অধ্যাপক প্রফেসর কেশবচন্দ্র মণ্ডল-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আধিকারিক ও কর্মীরা। তাঁদের উপস্থিতি ও উৎসাহে পড়ুয়াদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।দিনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূর্তি উন্মোচন। ‘সাহস্র কণ্ঠে বন্দেমাতরম’ কর্মসূচির সঙ্গে এই অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম’ ভারতের জাতীয় জাগরণ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বঙ্কিমচন্দ্রের মূর্তি স্থাপন ও উন্মোচন বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং দেশাত্মবোধের ঐতিহ্যকে স্মরণ করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান তুলে ধরার এক স্থায়ী উদ্যোগ বলেও মনে করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।এরপর অনুষ্ঠিত হয় দিনের অন্যতম আকর্ষণ ‘সাহস্র কণ্ঠে বন্দেমাতরম’। বিভিন্ন বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী একসঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশন করেন। হাতে হাতে জাতীয় পতাকা এবং হাজারো কণ্ঠের সম্মিলিত দেশাত্মবোধক সঙ্গীতে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আবেগঘন।স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কর্মসূচি শুধু অতীতের স্বাধীনতা সংগ্রামকে স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে আরও গভীরভাবে পৌঁছে দেওয়ার বার্তাও তুলে ধরেছে।