নিজস্ব সংবাদদাতা : নির্বাচনী রাজনীতি একদিকে, আর জনসেবার কাজ অন্যদিকে— এই বার্তাকেই সামনে রেখে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রাজ্যের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৯ই জুন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার বিধায়ক, সাংসদ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভোটের সময়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু বছরের বাকি সময় মানুষের উন্নয়নের জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ নানা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে রাজ্যকে বের করে আনার সময় এসেছে।”

নবগঠিত বিজেপি সরকারের এই প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ ও বিধায়কের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব), মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া, শিউলি সাহা এবং দিনেন রায়ের মতো বিরোধী শিবিরের নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এটি তাঁর সরকারের পঞ্চম প্রশাসনিক বৈঠক। নতুন সরকারের পরিকল্পনা, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ ভিশন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা ৩৫ জন বিধায়ক ও সাংসদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম এবং প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন। অধিকাংশই শাসক দলের হলেও বিরোধী প্রতিনিধিরাও গঠনমূলক আলোচনা করেছেন। এলাকার উন্নয়নের জন্য তাঁদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এসেছে।”বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একজন বিরোধী সাংসদ আমাকে বলেছেন, এখানে খোলামেলা আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

আজ রাজনৈতিক মতভেদ নয়, উন্নয়নই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।”এদিন পূর্বতন তৃণমূল সরকারেরও তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “আগের আমলে অনেক থানা কার্যত দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল। পঞ্চায়েতগুলো কাটমানির কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল এবং পুরসভাগুলির অবস্থাও ছিল উদ্বেগজনক। আমরা সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন চাই। বাংলায় এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।” সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠক বিকেল ৩টার পর শেষ হয়।
দীর্ঘ এই আলোচনায় জেলার পরিকাঠামো, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান প্রসঙ্গও উঠে আসে। ঘাটালের সাংসদ দেব প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানালে মুখ্যমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান শুধু সাংসদের প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারেরও অংশ ছিল। আমি তাঁকে আশ্বস্ত করেছি, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমরা নেব এবং কাজ এগিয়ে নিয়ে যাব।”রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা এবং ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের আশ্বাস— কোলাঘাটের এই প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এমনই গুরুত্বপূর্ণ সংকেত মিলল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।