Skip to content

অযোগ্য চাকরিহারাদের সুদ-সহ বেতন ফেরতের নির্দেশ শিক্ষা দপ্তরের!

অভিজিৎ সাহা: অযোগ্য চাকরিহারাদের সুদ-সহ বেতন ফেরতের নির্দেশ, জেলাশাসকদের চিঠি শিক্ষা দপ্তরের!২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চিহ্নিত অযোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের কাছ থেকে সুদ-সহ বেতন ফেরত আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে নির্দেশ দিল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সরকার পরিবর্তনের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট রায়ে জানিয়েছিল, অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাওয়া অযোগ্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত বেতন ফেরত দিতে হবে। অভিযোগ, এতদিন সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। এবার নতুন প্রশাসন সেই রায় বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।শিক্ষা দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারির পাঠানো চিঠিতে জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও কীভাবে টাকা আদায় করা হবে, সেই প্রক্রিয়া এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করা হতে পারে।উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেয়। এর জেরে চাকরি হারান মোট ২৫ হাজার ৭৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ছিল ১৮ হাজার ৪১৮। তদন্তে উঠে আসে, একাধিক প্রার্থী সাদা ওএমআর শিট জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছিলেন। এমনকি মাত্র ১২টি প্রশ্নের উত্তর লিখেও এক পরীক্ষার্থী মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন বলে অভিযোগ সামনে আসে।শেষপর্যন্ত নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগে ১,৮০৬ জনকে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সেই তালিকায় একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠের নাম উঠে আসায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এবার সুদ-সহ বেতন ফেরতের নির্দেশ সামনে আসতেই চিহ্নিত অযোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Latest