নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। ঠিক এই আবহেই ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে এক অভিনব ও নজিরবিহীন পরিকল্পনা সামনে এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি এবার প্রকৃতিকেই সীমান্ত সুরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার ভাবনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া নদী ও জলাভূমি এলাকায় কুমির এবং বিষধর সাপ ছেড়ে অনুপ্রবেশ রোখার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বিএসএফ।‘SIR’ আবহে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের আগে শাসক ও বিরোধী— দুই পক্ষই বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে একে অপরকে নিশানা করছে। অভিযোগ, সীমান্ত পেরিয়ে বহু অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে বেআইনি নথি তৈরি করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত— এমন দাবিও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত সুরক্ষা আরও কড়া করতে চাইছে কেন্দ্র।বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব সীমান্তে বাংলাদেশ লাগোয়া মোট ২,২১৭ কিমি আন্তর্জাতিক সীমান্তের অন্তত ৫৬৯ কিমি এলাকায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই।

এর মধ্যে প্রায় ১১৩ কিমি অংশ এমন যেখানে ভৌগোলিক কারণে কাঁটাতার বসানো কার্যত অসম্ভব। বিশেষ করে নদী, খাল, বিল ও বিস্তীর্ণ জলাভূমি এলাকায় নজরদারির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। সেই কারণেই ‘ভালনারেবল রিভারিন গ্যাপ’ এলাকাগুলিতে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে সরীসৃপ ব্যবহারের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।সূত্রের দাবি, সম্প্রতি দিল্লিতে বিএসএফের সদর দপ্তরে শীর্ষ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সেখানে নদীপথ ও জলাভূমিতে বেশি করে কুমির এবং বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া যায় কি না, তা দ্রুত পরীক্ষা করে দেখতে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট— যেখানে অস্ত্র, টহল বা উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর নয়, সেখানে প্রকৃতির ভয়কেই প্রতিরোধের অস্ত্র বানানো।এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু অনুপ্রবেশ নয়, নদীপথে চোরাচালানেও বড় রাশ টানা সম্ভব বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জলপথে বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করলে অনুপ্রবেশকারীদের সামনে পড়তে হতে পারে কুমির বা বিষধর সাপের মতো ভয়ংকর বিপদের মুখে।পাশাপাশি বিএসএফ আরও দু’টি বিষয়ে জোর দিচ্ছে— সীমান্তের ‘ডার্ক জ়োন’ বর্ডার আউটপোস্ট চিহ্নিত করে মোবাইল নেটওয়ার্ক উন্নত করা, এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ঝুলে থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি।যদিও এই পরিকল্পনা ঘিরে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে বিতর্কও শুরু হয়েছে। কারণ, কেউটে, চন্দ্রবোড়া-সহ বহু বিষধর সাপ বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের শিডিউল–১ তালিকাভুক্ত। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, যেহেতু নদী ও জলাভূমিই এই প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান, তাই বাস্তুতন্ত্রের বড় ক্ষতি না করেই এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে।