নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম এশিয়ায় উত্তপ্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি, তার উপর কূটনৈতিক টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় ঢেকে গিয়েছিল ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা করলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতির স্পষ্ট বার্তা—আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ-এ অংশ নেবে ইরান এবং তাদের ম্যাচ হবে আমেরিকার মাটিতেই। কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনো বলেন, বিশ্বকে একসূত্রে বাঁধার শক্তি ফুটবলের মধ্যেই রয়েছে। তাই রাজনৈতিক উত্তেজনা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও কোনও দলকে বাদ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, “ফুটবল বিশ্বকে এক করে—এই দায়িত্ব আমাদের সবার।” এই ঘোষণার পরই সুর নরম করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিছুদিন আগেও ইরানের দলকে আমেরিকায় না আসার পরামর্শ দিলেও এবার তিনি বলেন, “ইনফান্তিনো যখন বলেছেন, আমার আর আপত্তি নেই। খেলতে দাও।” যদিও ইরানের দল নিয়ে তাঁর মন্তব্যে খানিক কটাক্ষের সুরও শোনা যায়। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া এখনও কাটেনি। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান সরকার ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচই আমেরিকায় হওয়ায় তারা ম্যাচ সরানোর আবেদন করেছিল কানাডা বা মেক্সিকোয়। কিন্তু ফিফা সূচিতে কোনও বদল আনতে রাজি হয়নি। সূত্রের খবর, ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখনও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—ইরানের দলের সঙ্গে কোনও ভাবেই ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড (IRGC)-এর সদস্য থাকতে পারবেন না। কেউ যুক্ত থাকলে আমেরিকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ফিফা কংগ্রেসে আরও এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত সামনে আসে। ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে জিবরিল রাজুব এবং শেখ সুলিমান-কে মঞ্চে ডাকা হলেও করমর্দন করতে অস্বীকার করেন রাজুব। ফলে ইজ়রায়েল-প্যালেস্টাইন সম্পর্ক নিয়ে শান্তির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা ভেস্তে যায় মঞ্চেই। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে ক্রীড়া আর রাজনীতির টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট। তবু ফিফার অবস্থান পরিষ্কার—মাঠে লড়াই হবে ফুটবলের, রাজনীতির নয়। এখন দেখার, উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে শেষ পর্যন্ত ইরান দল আমেরিকায় পা রাখে কি না।
যুদ্ধের ছায়া সত্ত্বেও বিশ্বকাপে খেলবে ইরান? আমেরিকাতেই ম্যাচ—ফিফার ঘোষণায় জল্পনার অবসান!