নিজস্ব সংবাদদাতা: ঝাড়গ্রাম শহরে শিশুদের জন্য নতুন আনন্দের ঠিকানা তৈরি হলো। শহরের বিদ্যাসাগর পল্লির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে উদ্বোধন করা হলো একটি আধুনিক শিশু উদ্যান। সোমবার ফিতে কেটে এই পার্কটির উদ্বোধন করেন রাজ্যের বনদফতরের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। বিধায়ক তহবিলের প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই শিশু উদ্যানে ছোটদের খেলাধুলার জন্য রাখা হয়েছে একাধিক আধুনিক সরঞ্জাম। দোলনা, স্লাইড, ঝোলার বিভিন্ন উপকরণ, স্প্রিং লাগানো ঘোড়া সহ শিশুদের আকর্ষণ করার মতো নানা খেলনা বসানো হয়েছে পার্ক জুড়ে। শুধু তাই নয়, পার্কের চারদিকে তৈরি করা হয়েছে ব্লক বসানো রাস্তা, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহজেই মর্নিং ওয়াক করতে পারেন। দর্শনার্থীদের বসার জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত চেয়ারের ব্যবস্থা।

উদ্বোধনের পর পার্কটি ঘুরে দেখেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। এদিন তিনি এলাকার শিশু ও মহিলাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। শিশুদের সঙ্গে হাসিমুখে কথোপকথন করতে দেখা যায় তাঁকে। মন্ত্রী বলেন, “শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শহরে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বাড়ানো দরকার।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম, ঝাড়গ্রাম পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গৌতম মাহাতো, ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নবু গোয়ালা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রসঙ্গত, বাম আমলে ঝাড়গ্রাম শহরে ঘোড়াধরা পার্ক, রবীন্দ্র পার্ক, বৈকালিক পার্ক, লোকাল বোর্ড পুকুর সংলগ্ন সঞ্চিতা পার্ক, বেনাগেড়িয়ার অরবিন্দ পার্ক এবং সত্যবান পল্লির পার্ক সহ মোট আটটি পার্ক তৈরি হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই পার্কগুলির বেশিরভাগই বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কোথাও আলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর অন্ধকার নেমে আসে, আবার কোথাও বেড়া ছিঁড়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর অবাধ যাতায়াত দেখা যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পার্কগুলির ব্যবহার কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন শিশু উদ্যান তৈরির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন ঝাড়গ্রামের বাসিন্দারা। তবে একই সঙ্গে পার্কটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনদফতরের হাতে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নতুন এই শিশু উদ্যানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকার শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হলে আগামী দিনে এই পার্ক ঝাড়গ্রাম শহরের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।