বিহারের ‘ছোট সরকার’-এর জামিন বাতিল, সুপ্রিম নির্দেশে ফের জেলে অনন্ত সিং
নিজস্ব সংবাদদাতা: বিহারের রাজনীতিতে পরিচিত নাম তথা ‘ছোট সরকার’ হিসেবে পরিচিত বাহুবলী নেতা অনন্ত সিংয়ের জামিন বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর আত্মসমর্পণ করতে চলেছেন মোকামার এই জেডিইউ বিধায়ক। অনন্ত নিজেই জানিয়েছেন, দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই তিনি আত্মসমর্পণ করবেন।উল্লেখ্য, গত বছর বিহারের মোকামা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জেডিইউয়ের টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অনন্ত সিং। সেই সময় তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার চালানো দুলারচন্দ্র যাদব খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডে অনন্ত সিংয়ের নাম জড়ায়। অভিযোগ ওঠে, গাড়িচাপা দিয়ে দুলারচন্দ্রকে হত্যার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ছিল। এমনকী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার অভিযোগও সামনে আসে। যদিও এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা বিচারাধীন।জেলবন্দি অবস্থাতেই নির্বাচনে জয়ী হন অনন্ত সিং। পরবর্তীতে পাটনা হাই কোর্ট থেকে জামিন পান তিনি। কিন্তু সেই জামিনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের হয়। সম্প্রতি বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি ভি বরালের বেঞ্চ পাটনা হাই কোর্টের জামিনের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনন্ত সিংয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব এবং তাঁর অতীতের অপরাধমূলক রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল না। একই সঙ্গে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ফের বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই বাহুবলী নেতা। বিহারের বিধান পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নীরজ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, অতীতে নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করতে সাহায্য করার জন্য তিনি নয়জনকে খুন করিয়েছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও তাঁর এই দাবির সত্যতা নিয়ে পৃথকভাবে কোনও বিচারিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।সব মিলিয়ে একাধিক বিতর্ক ও আইনি জটিলতার মধ্যে ফের জেলযাত্রার মুখে বিহারের এই প্রভাবশালী নেতা।