আইএসআই-এর হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগ! হাসিমারা থেকে গ্রেফতার ভারতীয় সেনা জওয়ান
নিজস্ব সংবাদদাতা: পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর হয়ে চরবৃত্তি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে এক ভারতীয় সেনা জওয়ানকে গ্রেফতার করল পঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল। ধৃতের নাম রাজবীর সিংহ। তিনি পঞ্জাবের বাসিন্দা। সেনা ছাউনি সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য এবং সামরিক বাহিনীর গোপন নথি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ অক্টোবর পঞ্জাবের ফাজিলকা থানায় স্টেট স্পেশ্যাল অপারেশন সেলের পক্ষ থেকে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত দুই জওয়ান ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেনা ছাউনি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য আইএসআই-এর কাছে পাচার করছিলেন। বিষয়টি সামনে আসার পরই তদন্তে নামে পঞ্জাব পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল।তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজবীর সিংহ পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী সৌমিত্র সিংহ সরকার। অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হাসিমারায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল। কীভাবে তিনি এত দূরে এসে আত্মগোপন করেছিলেন, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।শুক্রবার ধৃতকে শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করে পঞ্জাব পুলিশ। আদালত তাঁকে দু’দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর তাঁকে ফাজিলকার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করাতে হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পরই অভিযুক্তকে নিয়ে পঞ্জাবের উদ্দেশে রওনা দেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।তবে এই ঘটনায় তদন্তকারীদের সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর গোপন তথ্য পাচারের ঘটনায় শুধুমাত্র রাজবীরই যুক্ত, নাকি এর পিছনে রয়েছে আরও বড় কোনও গুপ্তচর চক্র? অন্য কোনও সেনা আধিকারিক বা কর্মী এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে কতটা সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচার হয়েছে এবং সেই তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে নারাজ পঞ্জাব পুলিশের স্পেশাল অপারেশন সেল। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।