অরিন্দম চক্রবর্তী: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দেশের শাসনভার গ্রহণের ১২তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি খড়গপুরেও জনসাধারণের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। শনিবার খড়গপুরের কৌশল্যায় অবস্থিত বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি শমিত মণ্ডল, নারায়ণগড়ের বিধায়ক রামপ্রসাদ গিরি এবং জেলা মিডিয়া সেলের প্রতিনিধি প্রকৃতি রঞ্জন দাস। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ জুন ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খড়গপুরের বিভিন্ন ব্লক ও পৌর এলাকার নির্দিষ্ট স্থানে জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত হবে। এই শিবিরগুলিতে সাধারণ মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য ও সহায়তা পাবেন। বিশেষভাবে আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, কৃষক সম্মান নিধি, আয়ুষ্মান ভারত, বিশ্বকর্মা প্রকল্প-সহ একাধিক জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা ও পরিষেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খড়গপুর শহরের তালবাগিচা হাই স্কুল, খড়গপুর পুরসভা কার্যালয়, ট্রাফিক হাই স্কুল এবং অতুলমণি হাই স্কুলে এই শিবিরগুলি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়। সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতারা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও কেন্দ্র সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। নারায়ণগড়ের বিধায়ক রামপ্রসাদ গিরি জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে আরও একটি এইমস (AIIMS) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়াও কল্যাণী এইমসকে আরও আধুনিক ও উন্নত পরিষেবাসম্পন্ন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বিধায়ক আরও বলেন, খড়গপুরের আইআইটি সংলগ্ন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী হাসপাতালকে এইমসের ধাঁচে উন্নত পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে গোটা জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হবে। মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।