Skip to content

‘আমরা অর্ধমৃত, আর খুনিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে’—ছেলের মৃত্যুর পর আবেগঘন বার্তা বাবা-মায়ের!

নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ দিল্লির বসন্ত কুঞ্জে দ্রুতগতির একটি থার গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারানো ৩৩ বছরের যুবক সারথক মত্তুর মৃত্যুকে ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে। গুরুগ্রামের বাসিন্দা সারথকের পরিবার অভিযোগ তুলেছে, ঘটনার এতদিন পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, “যারা আমাদের ছেলেকে মেরে ফেলেছে, তারা এখনও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”গত ২৫ জুন সকালে প্রতিদিনের মতো মোটরবাইকে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন সারথক। পরিবারের একমাত্র সন্তান, আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ছিল তাঁর ৩৪তম জন্মদিন। অভিযোগ, সেই সময় বসন্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি দ্রুতগতির থার গাড়ি হঠাৎ মোড় নিয়ে তাঁর বাইকে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।এক পথচারী পুলিশকে খবর দেন এবং সারথকের আনলক থাকা মোবাইল ফোন থেকে তাঁর এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাঁকে দ্রুত ইন্ডিয়ান স্পাইনাল ইনজুরি সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুর্ঘটনায় জড়িত থার গাড়িটি বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থার নামে নথিভুক্ত ছিল।

গাড়িটি লিজে ব্যবহার করছিলেন ওই সংস্থার কর্মী, বিহারের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সি সাগর সাহা। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাঁর বন্ধু অপূর্ব সিং (৩০), আর তিনি নিজে যাত্রীর আসনে ছিলেন। এরপর পুলিশ অপূর্ব সিংকে গ্রেপ্তার করে।এদিকে সারথকের বাবা-মা সম্প্রতি একটি আবেগঘন ভিডিও প্রকাশ করে তদন্তে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর অভিযুক্তদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এত দেরিতে নমুনা নেওয়ায় অ্যালকোহল সেবনের প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবারের।শোকাহত বাবা-মায়ের কথায়, তাঁরা এখনও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, তদন্তে বিলম্ব এবং প্রমাণ সংগ্রহে গাফিলতির কারণে অভিযুক্তরা আইনের কঠোর শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারে। একমাত্র সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে তাঁরা এখন প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Latest