খড়্গপুরে ১০২তম বর্ষে ঐতিহ্যবাহী দশেরা উৎসব!

খড়্গপুরে ১০২তম বর্ষে ঐতিহ্যবাহী দশেরা উৎসব!

অরিন্দম চক্রবর্তী : বিজয়া দশমীর দিন ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহে মেতে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর শহর। দেশের ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হিসেবে পরিচিত এই শহরে মহাসমারোহে পালিত হল ঐতিহ্যবাহী দশেরা উৎসব ও রাবণ দহন অনুষ্ঠান। এ বছর এই উৎসব ১০২তম বর্ষে পদার্পণ করল।

খড়্গপুরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকার রাবণ ময়দানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দূরদূরান্ত থেকে প্রায় এক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। জনসমাগমে উৎসব প্রাঙ্গণ কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।এ দিনের অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ।

তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জুন মালিয়া, দিলীপ ঘোষের স্ত্রী, ডিআরএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা।অনুষ্ঠানের শুরুতে সুসজ্জিত রথে রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার প্রতিকৃতি নিয়ে উৎসব প্রাঙ্গণ পরিক্রমা করা হয়।

একইভাবে ঘোরানো হয় রাবণের প্রতিকৃতিও। এরপর মঞ্চে উপস্থিত কয়েক হাজার মানুষের পাশাপাশি উৎসব প্রাঙ্গণে সমবেত জনতা হনুমান চালিসা পাঠে অংশ নেন। সমবেত পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।এরপর রিমোটের সাহায্যে প্রতীকী তির নিক্ষেপ করে রাবণ দহন করেন দিলীপ ঘোষ। মুহূর্তের মধ্যেই দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

রাবণের বিশাল প্রতিকৃতি দহনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় বর্ণময় আতশবাজির প্রদর্শনী। রংবেরঙের আলোর ঝলকানি ও আতশবাজির দৃশ্য উপভোগ করেন উপস্থিত দর্শকরা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য মেনে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে শিশু থেকে প্রবীণ—সকলের মধ্যেই ছিল প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, রাবণ ময়দানের নাম পরিবর্তন করে পরের দিন থেকে ‘দশেরা উৎসব ময়দান’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে বুলডোজারে উঠে উপস্থিত বিপুল জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন তিনি। তাঁর এই উপস্থিতিও দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

খড়্গপুরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এই দশেরা উৎসব। প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মিলন ঘটে। ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি এই উৎসব শহরের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে।প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণ দহন কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির জাগরণের প্রতীক।

সেই বার্তাকে সামনে রেখেই ১০২ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে আরও একবার বর্ণাঢ্য রূপে পালিত হল খড়্গপুরের দশেরা উৎসব। বিপুল জনসমাগম ও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রমাণিত হল, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েও এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের জনপ্রিয়তা আজও অমলিন।

\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\\\\\n\\\\n\\\\n\\n\\n\n\n